ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিপর্যয় ক্রমেই বাড়ছে, পরাজয় কি আসন্ন?
ইয়েমেনে সৌদি জোটের আগ্রাসন আবারও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মনে হচ্ছে সৌদি জোটের ৫ বছরের চলমান আগ্রাসনের সমীকরণ এবার পুরোপুরি পাল্টে যাচ্ছে এবং তা ক্রমেই আগ্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয়কে অনিবার্য করে তুলবে।
এ বছর তথা আগ্রাসনের পঞ্চম বছরের শুরুর দিকে সৌদি রাজপরিবার নিয়ন্ত্রিত তেল-কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল আগ্রাসী সৌদি জোটের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়। এ হামলার জের ধরেই ভীত-সন্ত্রস্ত সৌদি সরকার সম্প্রতি মক্কায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এই আরব শীর্ষ বৈঠকে রাজা সালমান ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়াও গত এক সপ্তায় দক্ষিণ সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশের ২০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি দখল করেছে ইয়েমেনি সেনারা। আগ্রাসীদের হতচকিত করে-দেয়া এক আকস্মিক সিরিজ-অভিযানে ২০০'রও বেশি সৌদির অনুচর সেনা হতাহত হয় ইয়েমেনিদের হাতে। তারা বহু ভাড়াটে সেনাকে বন্দিও করে।
ইয়েমেনি প্রতিরোধ-যোদ্ধারা ইদানীং সীমান্তবর্তী সৌদি নাজরান ও জিযান প্রদেশে হামলা জোরদার করেছে অপেক্ষাকৃত সহজ টার্গেট হিসেবে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহর নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালিক হুথি সৌদি জোটের আগ্রাসন মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধের পঞ্চম বছরকে 'বিজয়ের বছর' বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। ইয়েমেনিরা এখন প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণের কৌশলও জোরদার করেছে। ফলে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ।
এদিকে ইয়েমেনি সৌদি-জোটের গণহত্যা, অবরোধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ব-জনমতের ব্যাপক নিন্দা ও চাপ সত্ত্বেও এই জোটের প্রতি পাশ্চাত্যের সর্বাত্মক সহায়তা কমেনি বরং বেড়েছে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে দেখা গেছে, গত বছরে সৌদির কাছে ফ্রান্সের অস্ত্র বিক্রি ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন সরকার ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো ইয়েমেনে অবরোধ ও আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট মানবীয় বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে সৌদি জোটের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হওয়া উচিত বা বন্ধ করা হচ্ছে বলে প্রচারণা চালালেও বাস্তবে সৌদি সরকার ও তার মিত্রদের কাছে পশ্চিমা অস্ত্র বিক্রি ক্রমেই বাড়ছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৭