ইসরাইলের উপস্থিতিতে বাহরাইনে শেষ হল দু'দিনের সম্মেলন: মূল টার্গেট ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i74706-ইসরাইলের_উপস্থিতিতে_বাহরাইনে_শেষ_হল_দু'দিনের_সম্মেলন_মূল_টার্গেট_ইরান
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিমান চলাচল ও সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক দু'দিনের সম্মেলন শেষ হয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২৩, ২০১৯ ১৫:১৬ Asia/Dhaka
  • মানামা সম্মেলন
    মানামা সম্মেলন

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিমান চলাচল ও সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক দু'দিনের সম্মেলন শেষ হয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বলা হচ্ছে, দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলসহ ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা  মানামা সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এই সম্মেলন চলার একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক বৈঠক ও কয়েকটি আরব দেশের সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এইসব সম্মেলন ও সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সমুদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা ও এর প্রতি সমর্থন জানানো।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মানামা সম্মেলন কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওয়ারশো সম্মেলনের ধারাবাহিকতা। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশোতে আমেরিকা ও পোল্যান্ডের উদ্যোগে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় এবার আমেরিকা ও বাহরাইনের উদ্যোগে মানামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল।

দ্বিতীয়ত, আরব দেশগুলোর সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করা ছিল মানামা সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ কারণে সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য ইসরাইলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অবশ্য চলতি বছর মানামায় অনুষ্ঠিত বেশ কিছু বৈঠকে দখলদার ইসরাইল অংশ নিয়েছে। প্রচণ্ড গণবিক্ষোভের কারণে বাহরাইনের আলে খলিফা সরকার ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা আমেরিকা ও ইসরাইলের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, বাহরাইন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাহরাইন আরব বিশ্বের ক্যাম্প ডেভিডে পরিণত হয়েছে এবং দেশটির স্বৈরাচার সরকার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও দেখা সাক্ষাতের জন্য কোনো সুযোগকেই হাত ছাড়া করে না।

মানামা সম্মেলনের গুরুত্বের তৃতীয় কারণ হচ্ছে, পারস্য উপসাগরে আল ফুজাইরা তেল ট্যাংকার বন্দরে জাহাজে হামলাসহ গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কিছু ঘটনার পর সমুদ্র নিরাপত্তার নামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে কোণঠাসা করা। 

আমেরিকা ও তার মিত্ররা কেবল ইরানকে চাপে ফেলার জন্য সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলছে যার প্রতি বেশ কয়েকটি আরব দেশ সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেন যুদ্ধে ব্যর্থতার পর সৌদি আরব বেশ কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছে। মানামা সম্মেলনের মাধ্যমে রিয়াদ সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

চতুর্থ বিষয়টি হচ্ছে, মানামা সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরান বিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এবং সমুদ্র নিরাপত্তার চাইতে ইরানই তাদের প্রধান টার্গেট। সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার ভাষায় পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরানের হুমকি ঠেকানোই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

যাইহোক, ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে মানামা সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও এ সম্মেলনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। কারণ ইরান ইস্যুতে সব দেশ একমত নয়। অন্যদিকে যে দেশগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ নৌমহড়ার আয়োজন করা হয়েছে তারা অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই। তাই মানামা সম্মেলন তাদের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলে অনেকে মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩