বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, গ্রেফতার: সরকার ও প্রতিরোধকামীদের মধ্যে উত্তেজনা
গত রবিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও এখন পর্যন্ত ওই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি কিন্তু মার্কিন সরকার এ ঘটনার জন্য ইরাকের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্তাপনের পর এটাকে কেন্দ্র করে ইরাকের সরকার ও প্রতিরোধ সংগঠনের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান আল ঘানেমি গতরাতে রকেট হামলার সঙ্গে জড়িত এমন কয়েকজনকে আটকের খবর দিয়েছেন যারা কিনা আসায়েব আহলুল হক গ্রুপের সদস্য। আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও ওই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আটকের পর আসায়েব আহলুল হক গ্রুপের সমর্থকরা ইরাকের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের সামনে সমবেত হয় এবং তারা আটককৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানায়। মন্ত্রণালয়ের সামনে সমাবেশের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ওই গ্রুপের দাবির কাছে আমরা মাথা নত করব না এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ইরাক সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী দফতরের কমান্ডার আব্দুল ওয়াহাব আল সাআদি বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী বাহিনী ইরাকের জনগণকে রক্ষায় প্রয়োজনে সব কিছুই করবে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় আছে।
শেষ পর্যন্ত যদিও আটককৃতদের মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। কিন্তু এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং বারবার কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে সেটাই প্রশ্ন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ইরাকের পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাব সরকার বাস্তবায়ন না করায় এটা প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টির মূল কারণ। ইরাকি পার্লামেন্ট সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের জন্য গত ৫ জানুয়ারি প্রস্তাব পাশ করেছিল। যদিও কিছু সংখ্যক মার্কিন সেনাকে ইরাক থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে কিন্তু পুরোপুরি মার্কিন সেনাদেরকে বহিষ্কারের ইচ্ছা ইরাক সরকারের নেই।
কিন্তু ইরাকের প্রতিরোধকামী সংগঠন ও সশস্ত্র গ্রুপগুলো সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে এবং তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। কয়েকজনকে আটকের ঘটনায় সরকারের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টির পর আসায়েব আহলুল হক গ্রুপের মহাসচিব কেইস আল খাযাআলি ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন।
সরকারের সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর বিরোধের অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে কোনো কোনো গণমাধ্যমের অপপ্রচার। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সৃষ্টির পরপরই সৌদি আরব ও মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ইরাকের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু করে এবং আসায়েব আহলুল হক গ্রুপকে ইরাক বিরোধী বলে তুলে ধরার চেষ্টা চালায়।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭