সৌদিআরব কি সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইরাকে প্রভাব বাড়াতে চায়?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i88182-সৌদিআরব_কি_সামরিক_সহযোগিতার_মাধ্যমে_ইরাকে_প্রভাব_বাড়াতে_চায়
সৌদি সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের প্রধান ফাইয়াজ বিন হামিদ আর-রুয়াইলি গতকাল (২ মার্চ) ইরাক সফর করেছেন। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল আবদুল আমির রাশিদ ইয়ারুল্লাহর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সফরের লক্ষ্য উদ্দেশ্য আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
মার্চ ০৩, ২০২১ ১৮:৪৬ Asia/Dhaka

সৌদি সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের প্রধান ফাইয়াজ বিন হামিদ আর-রুয়াইলি গতকাল (২ মার্চ) ইরাক সফর করেছেন। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল আবদুল আমির রাশিদ ইয়ারুল্লাহর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সফরের লক্ষ্য উদ্দেশ্য আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল।

রাশিয়ার স্পুতনিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের কদিন আগেকার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত জানুয়ারি মাসে ইরাক থেকে রিয়াদের সৌদি রাজপ্রাসাদে হামলার উদ্দেশে বিস্ফোরক বহনকারী কয়েকটি বিমান যাত্রা করেছিল। একটি ইরাকি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ওই খবরটি দিয়েছিল। ইরাকি ওই সূত্রটি জানিয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি ইরাক-সৌদি সীমান্ত এলাকা থেকে তিনটি ড্রোন সৌদি রাজপ্রাসাদে হামলা করেছিল।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন মনে করে ২৩ জানুয়ারির ওই হামলা আল-ইয়ামামাহ প্রাসাদে চালানো হয়েছিল এবং হামলাটি ইরাকের ভেতর থেকেই হয়েছিল। মূলত এই ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্যই গতকাল জনাব রুয়াইলি ইরাক সফর করেন বলে বিভিন্ন মিডিয়া খবর দিয়েছে।

ফাইয়াজ বিন হামিদ আর-রুয়াইলি

তবে বিশেষজ্ঞমহলের ধারনা সৌদি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ের এই আলোচনার ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ২০২০ সালের নভেম্বরে ইরাকি সেনাবাহিনীর চিফস অফ স্টাফ সৌদিআরব সফর করেন। ওই সফরে তিনি সৌদি সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের সঙ্গে বাগদাদ-রিয়াদ সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। গত সপ্তায়ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান আল-গানিমির নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিনিধি দল রিয়াদ সফর করেছেন। সৌদি কর্মকর্তারাও গত দশ মাসে বেশ কয়েকবার ইরাক সফর করেছেন।

এইসব সফরের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। সৌদি আরব পশুপালন ও কৃষিকাজের জন্য ইরাকের কাছ থেকে জমি চেয়েছিল এবং এ ব্যাপারে সমঝোতার বিষয়টিই ছিল সে সময়কার সফরের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে সৌদি আরব এবং ইরাকের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল। সুতরাং সৌদি সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের সাম্প্রতিক ইরাক সফরের উদ্দেশ্য উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা বলেও মনে করছেন অনেকেই।

তবে সৌদি আরব সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইরাকে তার প্রভাব বাড়াতে চায় কিনা সে বিষয়েও নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞমহল।

গত ডিসেম্বর মাসে সৌদিআরব ইরাকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। মোস্তফা আল-কাজেমি সরকারের প্রতিও সৌদি আরবের সমর্থন রয়েছে। অপরদিকে কাজেমিও এ বিষয়ে সৌদি আরবকে সবুজ সংকেত দিয়েছে।#

পার্সটুডে/এনএম/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।