নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বৈশ্বিক ক্ষতি ও হিজাব বিতর্কে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান
-
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ক্ষতি
পার্সটুডে: তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বার্ষিক বৈশ্বিক ব্যয় প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে হিজাব নিয়ে আলোচনাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার ও বিবাহ কেন্দ্রের প্রধান হামজা মানসুরি, “নিউরোলজি, বায়োলজি ও সামাজিক মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পবিত্রতা ও হিজাব” শীর্ষক এক বিশেষজ্ঞ সম্মেলনে বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিষয়ে প্রচলিত, নির্দেশনামূলক ও ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে না। যদি হিজাব ও নারী বিষয়ক বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করতে হয়, তবে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আলোচনার ধারা উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি জানান, চার বছরের আন্তঃবিষয়ক গবেষণায় চিকিৎসাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, নারী অধ্যয়ন ও সামাজিক বিজ্ঞানের ২০ হাজারেরও বেশি বৈজ্ঞানিক সূত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে, যার কিছু প্রথমবারের মতো ইরানে বিশেষায়িতভাবে অনূদিত হয়েছে।
নারী-বিদ্বেষী সহিংসতার সামাজিক ও মানসিক মাত্রা
মানসুরি আন্তর্জাতিক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সামাজিক স্বাধীনতার বিস্তৃত দাবি থাকা সত্ত্বেও যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বিশ্বজুড়ে নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যার বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার ও বিবাহ বিষয়ক কেন্দ্রের প্রধান ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সংস্থার (এফআরএ) প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, নেদারল্যান্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় ১৫ বছর বয়সের পর অন্তত একবার যৌন নিপীড়ন বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ইউরোপের ৮৩ শতাংশ তরুণী নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চলাফেরা বা জনসমাগমস্থলে উপস্থিতি সীমিত করেন।
তার মতে, যৌন সহিংসতার মানসিক পরিণতির মধ্যে রয়েছে হতাশা, উদ্বেগ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), মনোযোগের ঘাটতি, আত্মসম্মানবোধের হ্রাস ও আত্মহত্যাপ্রবণতা। তিনি দাবি করেন, যৌন সহিংসতার শিকার ৩৩ শতাংশ নারী আত্মহত্যার কথা ভাবেন এবং প্রায় ১৩ শতাংশ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মানসুরি এই পরিস্থিতির পেছনে “নারীর ভোগের বস্তু” হিসেবে দেখানোকে দায়ী করেন। তার মতে, যৌন কৌতুক, অবমাননাকর দৃষ্টি, সামাজিক মাধ্যমে অনুপযুক্ত মন্তব্য ও বার্তা নারীদের বস্তুতে পরিণত করে, যা যৌন সহিংসতাকে উসকে দেয়।
তিনি সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন এবং ক্রীড়ায় মেয়েদের যৌনায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীর দেহ তার মানবিক পরিচয়ের জায়গা দখল করে নেয় এবং এই প্রক্রিয়া বিশেষ করে কম আত্মসম্মানসম্পন্ন কিশোরীদের ওপর গুরুতর মানসিক প্রভাব ফেলে। মানসুরি জোর দিয়ে বলেন, নারী ও পর্দার বিষয়টি কেবল একটি ধর্মতাত্ত্বিক বা আইনগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক, মানসিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ যা অবশ্যই বিজ্ঞান ও পরীক্ষামূলক উপাত্তের ভাষায় উপস্থাপন করা উচিত।
তিনি সতর্ক করেন, নারীর স্বাধীনতার মিডিয়াচিত্র ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে, তা উপেক্ষা করা হলে যৌন সহিংসতা একটি নীরব সংকট হিসেবে পুনরুৎপাদিত হতে থাকবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৭