ইরানের নৌশক্তি: সামরিক কর্তৃত্ব, কূটনীতি, প্রযুক্তি এবং মানবিক নীতির সংমিশ্রণ
-
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি আন্তঃআঞ্চলিক ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবহরের সাম্প্রতিক অভিযানের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে বলেছেন, মহাসাগর এবং উন্মুক্ত জলসীমায় ইরানি জাহাজের উপস্থিতি কেবল সামরিক মোতায়েন বোঝায় না বরং সামরিক শক্তির সাথে নৌ কূটনীতি, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা, মানবিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামের সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি বহিঃপ্রকাশ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার আরো বলেন, মিশনের সুনির্দিষ্ট সম্পাদনে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ লাইনের সুরক্ষায় এই প্রস্তুতি এবং কর্তৃত্ব বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই বাহিনীর দুর্দান্ত ক্ষমতা প্রতিফলিত করে।
সর্বোচ্চ কমান্ডার-ইন-চিফের কৌশলগত নির্দেশনার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জোর দিয়ে বলেন, এই অগ্রগতি এবং সাফল্যের একটি বড় অংশ সর্বোচ্চ নেতার বুদ্ধিমত্তা এবং শক্তিশালী কমান্ডের কারণে যিনি স্পষ্ট দিগন্ত টেনে নৌবাহিনীর উৎকর্ষতা এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করেছেন।
সমুদ্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবহরের দীর্ঘ অভিযান (প্রণালী অতিক্রম করে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় উপস্থিত থাকা) কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। উদ্ধার, জলদস্যুতা বিরোধী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মিশনে সক্রিয় উপস্থিতি ইরানকে কেবল একটি নিয়োজিত সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয় বরং একটি স্থিতিশীলকারী হিসেবেও পরিচয় করিয়ে দেয়।
উন্মুক্ত জলসীমায় ইরানি জাহাজের উপস্থিতি সেনাবাহিনীর নৌবাহিনীর কৌশলগত গভীরতা এবং বহুমুখী পরিপক্কতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। নিরাপত্তা এবং কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই উপস্থিতি বিশ্ব অঙ্গনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈজ্ঞানিক, কূটনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য একটি কার্যকর হাতিয়ার। এমন একটি প্রেক্ষাপটে যেখানে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর ভূ-রাজনীতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বাণিজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয় সেখানে ইরানের আন্তঃআঞ্চলিক নৌশক্তির বিকাশ কেবল একটি প্রতীকী কাজ নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলও।
এই উপস্থিতি আন্তঃআঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায় যে ইরান আন্তর্জাতিক জলসীমার যেকোনো স্থানে তার জাতীয় স্বার্থ এবং তার যোগাযোগ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে অন্য দেশের উপর নির্ভরতা ছাড়াই। এটি কার্যকর প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষা আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ, বিশেষ করে ইরানের নৌ-ক্ষমতা বৃদ্ধির আমেরিকার এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের স্বীকৃতির আলোকে।
দেশের অভ্যন্তরে জাহাজ এবং সাবমেরিনের নকশা, নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ দেশীয় প্রতিরক্ষা জ্ঞান চক্র এবং উন্নত প্রকৌশলের দক্ষতাকে প্রতিফলিত করে। এই বৈজ্ঞানিক শক্তি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীকে কৌশলগত পর্যায়ে সম্পূর্ণ কর্মক্ষম স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে এবং বিদেশী অবকাঠামোর উপর নির্ভর না করে আন্তঃ-আঞ্চলিক মিশনে কাজ করতে সক্ষম করেছে।
সামরিক এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলোর বাইরে,ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নৌবাহিনীর উপস্থিতি একটি সাংস্কৃতিক এবং মানবিক বার্তা বহন করে। এই বার্তাটি দেশের সভ্যতাগত এবং ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে নিহিত যা শক্তিকে কেবল আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে নয়,বরং ন্যায়বিচার,সম্মিলিত নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার উপায় হিসেবে দেখে।
আন্তর্জাতিক মিশনে নৌবাহিনীর কর্মীদের আচরণ এবং চরিত্র দানশীলতা, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, অন্যান্য জাতির সাথে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নীতিমালা পালনের মতো মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে। এই মনোভাব ইরানের সামরিক শক্তিকে নৈতিকভাবে ভিত্তিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে যা সমুদ্রে সামরিক উপস্থিতির এক ভিন্ন রূপ উপস্থাপন করে।
উন্মুক্ত জলসীমায় ইরানি জাহাজের উপস্থিতি দেখায় যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কঠোর শক্তি (সামরিক-প্রযুক্তিগত) এবং নরম শক্তি (সাংস্কৃতিক-কূটনৈতিক-নৈতিক) এর উপাদানগুলোর মধ্যে একটি কৌশলগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং এইভাবে,বিশ্বের সমুদ্র ক্ষেত্রের অন্যতম দায়িত্বশীল এবং শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসাবে তার অবস্থান সুসংহত করেছে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।