সিরিয়াকে ভাঙার গভীর ষড়যন্ত্র: স্বায়ত্তশাসিত এলাকা গঠনের চেষ্টা: দামেস্কের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i95018-সিরিয়াকে_ভাঙার_গভীর_ষড়যন্ত্র_স্বায়ত্তশাসিত_এলাকা_গঠনের_চেষ্টা_দামেস্কের_প্রতিক্রিয়া
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেদেশের কিছু এলাকা নিয়ে আলাদা স্বায়ত্তশাসিত সরকার গঠনের যে কথা বলা হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সিরিয়াকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করা।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জুলাই ২৫, ২০২১ ১৪:৩৪ Asia/Dhaka

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেদেশের কিছু এলাকা নিয়ে আলাদা স্বায়ত্তশাসিত সরকার গঠনের যে কথা বলা হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সিরিয়াকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করা।

২০১১ সাল থেকে সিরিয়া সরকার বিদেশি মদদপুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। প্রায় ১০০টি দেশ থেকে সন্ত্রাসীদেরকে ভাড়া করে এনে সিরিয়ায় জড়ো করা হয় এবং পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলো ও পশ্চিম এশিয়ায় তাদের মিত্র দেশগুলো এসব সন্ত্রাসীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দেয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সিরিয়ার জনপ্রিয় আসাদ সরকারের পতন ঘটানো যারা কিনা এ অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে যুদ্ধ করেও শত্রুরা তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে তো পারেনি বরং সিরিয়া সরকার রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হয়েছে। তারা বিদেশী মদদপুষ্ট এসব সন্ত্রাসীদের পরাজিত করতে সক্ষম হলেও সন্ত্রাসীরা এখনো উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের কিছু জায়গা এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সহযোগিতায় তারা এখনো ওই স্থানে অবস্থান করছে।

চলতি বছর মে মাসে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ওই নির্বাচনে বাশার আল আসাদ বিপুল ভোটে অর্থাৎ ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। যুদ্ধের ময়দানে সিরিয়ার সরকার ও সেনাবাহিনী শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়ার পর বাশার আল আসাদের প্রতিপক্ষরা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার ও সিরিয়ার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। শত্রুর অন্যতম একটি কৌশল হচ্ছে সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ আরো বেশ কিছু জায়গা নিয়ে আলাদা স্বায়ত্বশাসিত এলাকা গঠন করা। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সশস্ত্র কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় স্বায়ত্বশাসিত এলাকা গঠনের চেষ্টা করছে এবং তারা সিরিয়ায়ও ইরাকের কুর্দিদের মতো স্বায়ত্বশাসিত এলাকা গঠনের দাবি জানাচ্ছে। সিরিয়ার ডেমোক্রেটিক দলের সামরিক শাখার কমান্ডার মাজলুম আবাদি বলেছেন, সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা ২০১১ সালের মতো নেই সে কারণে সিরিয়ার শাসন ক্ষমতায় কুর্দিদের আরো বেশি ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়া উচিত।

বাস্তবতা হচ্ছে, কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী তাদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্য দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ জবরদখল করে রেখেছে এবং সেখান থেকে তেল চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করছে এবং সেই অর্থ তারা তাদের প্রস্তাবিত স্বায়ত্তশাসিত এলাকার বিভিন্ন চাহিদা পূরণে ব্যয় করছে। তাদের এ অবৈধ কাজে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশ সহযোগিতা করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন সম্প্রতি এলিজা প্রাসাদে সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসনের দাবিদার একদল প্রতিনিধিকে সাক্ষাত দেন। এ সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলের এক নেতা বার ইয়াভান খালেদ তাদের স্বায়ত্বশাসনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভের জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্টের সহায়তা চেয়েছেন। এ ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের প্রস্তাবিত স্বায়ত্তশাসিত এলাকায় কোনো কোনো আরব দেশের কর্মকর্তারা সেখানে যাচ্ছেন এবং তারা ওই এলাকাকে সিরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সিরিয়াকে দুর্বল করা।

প্রকৃতপক্ষে স্বায়ত্তশাসিত এলাকা গঠন সিরিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলো এবং এ অঞ্চলে তাদের কিছু পদলেহি সরকার সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে কিছু করতে না পেরে এখন স্বায়ত্তশাসিত এলাকা গঠনের মাধ্যমে সিরিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে কেবল মাত্র ইসরাইলই লাভবান হবে। বলা যায় ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সিরিয়ার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র চলছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫