ইমরান কি আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারেন?
ইমরানের বিরুদ্ধে সংসদীয় অনাস্থায় মার্কিন ভূমিকা ও পাকিস্তানের ভবিষ্যত
অবশেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সংসদে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে হেরে গিয়ে ক্ষমতা হারালেন।
সংসদে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দলগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী এমপিদের পক্ষ থেকে ১৭৪ টি ভোট অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে এবং এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়ে ১১০টি। অনাস্থা কার্যকর করার জন্য ১৭২টি ভোটই যথেষ্ট ছিল।
ইমরান খান দাবি করে আসছিলেন যে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র পাকানো হয় হোয়াইট হাউজ থেকে। তার মতে মার্কিন সরকারের সঙ্গে তার বিরোধী দলগুলোর অলিখিত সমঝোতার বলি হয়েছেন তিনি। মার্কিন সরকার ও তার কোনো কোনো আঞ্চলিক মিত্রের দৃষ্টিতে ইমরান খান হয়ে পড়েছিলেন তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে অবাধ্য সরকার! ইমরান পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দেয়ায় এবং ইউক্রেন যুদ্ধে শুরু হওয়ার পর রাশিয়া সফরে যাওয়ায় ওয়াশিংটন তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ইমরান যে ধরনের স্বাধীন নীতি অনুসরণ বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার প্রতি বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন তা তার আগের কোনো সরকার গ্রহণ করতে সাহসী হয়নি। ইমরান ২০১৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগান যুদ্ধ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতায় সতর্কতার নীতি প্রয়োগ করেছেন এবং মার্কিন ইচ্ছার ওপরে পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অথচ তার আগের পাকিস্তানী কর্মকর্তারা আফগান যুদ্ধে মার্কিন সরকারের হাতে হয়েছেন সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহৃত।
পাকিস্তানকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেননি ইমরান। বিশেষ করে পাকিস্তানের মাটিতে মার্কিন সেনা-ঘাঁটি করতে না দেয়ার পদক্ষেপ ইমরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিহিংসা সৃষ্টি করেছিল মার্কিন সরকারের মধ্যে। এ অবস্থায় বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ইমরান খানকে পাকিস্তানের ক্ষমতা থেকে বিদায় করার পরিকল্পনায় মেতে ওঠে ওয়াশিংটন। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও ইমরান-বিরোধী শিবিরের যৌথ পরিকল্পনাই সফল হয়েছে। কিন্তু এর পরিণতিতে পাকিস্তানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ময়দান বেশ কিছুকাল উত্তপ্ত থাকতে পারে। ইমরান খানের সমর্থকরা তার আহ্বানে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ করে পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলতে পারেন।
মনে করা হচ্ছে যে পাকিস্তানের নতুন সরকার আবারও ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে আনবে এবং এমনকি তালেবান ও প্রতিবেশীদের ব্যাপারেও পাকিস্তানের নতুন সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইমরানের পদচ্যুতির বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় তার প্রতি সেদেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। ফলে ইমরান খান ও তার দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে আগের চেয়েও ভালো ফল নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১০