ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা নিবন্ধে
পশ্চিম এশিয়া সফরের পক্ষে জো বাইডেনের সাফাই এবং মার্কিন ব্যর্থতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পশ্চিম এশিয়ায় তার আসন্ন সফরের প্রাক্কালে ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে দাবি করেছেন যে গত ১৮ মাস ধরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালনের সময় এ অঞ্চল আগের চেয়ে আরো বেশি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন খুব শিগগিরই পশ্চিম এশিয়া সফরে যাচ্ছেন যেখানে তার সৌদি আরব সফর নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতির রেকর্ড, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা এবং রিয়াদকে প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে জো বাইডেনের আগের এক বিবৃতির জেরে গত দুই বছর ধরে আমেরিকা এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে দেখা গেছে যে জামাল খাসোগীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দায়ী। পশ্চিম এশিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সফরের সমালোচনাকারীরা বলছেন সৌদি আরবের তেল এখন বাইডেনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মজার বিষয় হচ্ছে সৌদি আরবের আসন্ন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। অথচ বিন সালমানকে প্রত্যাখ্যান করার কথা এর আগে এক বিবৃতিতে বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বাইডেন তার আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে গিয়ে আসন্ন সফরে তেল, ইয়েমেন সংকট, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন বলে কথা রয়েছে। এদিকে এই সফরের সমালোচনা করে মার্কিন সিনেটররা বাইডেনকে দেয়া এক চিঠিতে বলেছেন, দায়মুক্তি নিয়ে শাসন করতে মোহাম্মদ বিন সালমানকে আমরা অনুমতি দিতে পারি না।
এসব পরিস্থিতে যেখানে তার সফর নিয়ে নানা মহল থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার সফরের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্টো দাবি করেছেন যে তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালানীন সময়ে পশ্চিম এশীয়া অঞ্চল আরও নিরাপদ ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি এমন একটি দাবি করছেন যেখানে সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তার এ নিবন্ধের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে বাইডেন পশ্চিম এশীয়া অঞ্চল এমন সময় ভ্রমণ করছেন যখন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হয়েছে, হঠাৎ সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ায় আমেরিকান নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং ইয়েমেন যুদ্ধ এখনো চলমান রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বাইডেন এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার কারণ হিসেবে আমেরিকার কৃতিত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন! এই প্রসঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর প্রাক্তন সদস্য পল পিলার লিখেছেন, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির প্রতি বাইডেনের দৃষ্টিভঙ্গি তার সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রকৃতপক্ষে বাইডেন পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তার কথা এমন সময় বলছেন যখন পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকার সব পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়েছে। তবে এখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের সংকট বিশ্বের পাশাপাশি এ অঞ্চলে প্রভাব ফেলেছে। বাইডেনের সৌদি আরব সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল রিয়াদ সরকার এবং তার মিত্রদের দ্বারা আরও তেল সরবরাহের চেষ্টা করা। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব প্রসঙ্গে এক বক্তব্যে বলেছেন যে এই দেশটি শক্তির ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমরা এমন একটি জাতি যারা তেলের জন্য ভেনিজুয়েলা এবং সৌদি আরবের কাছে অনুনয় বিনয় করি।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।