মৃত ঘোড়া জাওয়াহিরিকে হত্যার নানা উদ্দেশ্য ও রহস্য!
https://parstoday.ir/bn/news/world-i111428-মৃত_ঘোড়া_জাওয়াহিরিকে_হত্যার_নানা_উদ্দেশ্য_ও_রহস্য!
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন। গত রোববার ড্রোনের মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ০৩, ২০২২ ১৩:৪২ Asia/Dhaka
  • বিন লাদেন ও জাওয়াহিরি
    বিন লাদেন ও জাওয়াহিরি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন। গত রোববার ড্রোনের মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয়।

এই হামলার মাধ্যমে একদিকে যেমন রং-রূপ ও প্রভাব হারিয়ে ফেলা মার্কিন স্বার্থের সহযোগী গোষ্ঠী আলকায়দাকে গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করল মার্কিন সরকার, একইসঙ্গে বিশ্ব অঙ্গনে ম্লান হয়ে পড়া মার্কিন কর্তৃত্বকেও তুলে ধরার চেষ্টাসহ নানা স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করল বাইডেন সরকার। 

মার্কিন মদদপুষ্ট আলকায়দা যখন প্রায় পুরোপুরি কথিত আইএসব বা দায়েশের মত সন্ত্রাসী দলগুলোর রূপ নিয়েছে এবং এর সন্ত্রাস যখন মার্কিন মদদপুষ্ট  দায়েশ বা কথিত আইএস-এর সন্ত্রাসের চেয়েও অনেক নগণ্য হয়ে পড়েছে তখন মার্কিন দাবার ছকের মৃত ঘোড়া জাওয়াহিরিকে হত্যা করা হল!

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাওয়াহেরিকে হত্যা করে বাইডেন সরকার তার অর্থনৈতিক মন্দা ও ব্যর্থতার দিক থেকে মার্কিন জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করেছে যেই মন্দা থেকে নিকট ভবিষ্যতেও মুক্ত হওয়ার আশা নেই মার্কিন সরকারের। তাই ঘরোয়া সংকটের দিক থেকে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরানোর জন্য মার্কিন সরকারগুলো মাঝে মধ্যেই প্রভাবের দিক থেকে জিরো হয়ে পড়া নিজেদের তৈরি সাবেক হিরোদেরকে হত্যা করে থাকে!

বাইডেন সম্প্রতি ইসরাইল ও সৌদি আরব সফর করে তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেননি। ব্যর্থ ওই সফরের পর তিনি করোনায় আক্রান্ত হন এবং তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়েও নানা কথা শোনা যাচ্ছিল। এ অবস্থায় বাইডেন জাওয়াহিরিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে নিজের সুস্থতা ও বীরত্বকে কিছুটা জাহির  করলেন! ওবামা বীরত্ব জাহির করেছিলেন ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার নায়ক সেজে এবং ট্রাম্প তা করেছিলেন দায়েশের নেতা আবুবকর আল বাগদাদিকে হত্যার খবর প্রচার করে! বাইডেন যেহেতু আর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন না তাই তিনিও আলকায়দা ও দায়েশের নেতাদের হত্যার ক্ষেত্রে অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের চেয়েও যে পিছিয়ে নেই তা জাহির করার সুযোগ নিলেন। 

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলাও এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য। কারণ বলা হচ্ছে যে ডেমোক্রেটদের ভোটের বাজার খুব খারাপ হয়ে আছে। 

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাইডেন সরকারের ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত হিসেবে এ কথা বলা হয় যে তার সরকার আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের পলায়নমূলক প্রত্যাহারের মাধ্যমে এই দেশটিতে ব্যয় করা কয়েক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করাকে বরবাদ করেছে। ফলে দেশটি আবারও আলকায়দার সহযোগী ও মার্কিন সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে! আর এই দুর্নাম ঘোচানোর জন্যও জাওয়াহিরিকে হত্যা করা জরুরি হয়ে পড়েছিল!

বাইডেন সরকার এখন এ কথা বলার সুযোগ পাবে যে আফগানিস্তানে মার্কিন সরকারের ভূমিকা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এমনকি তালেবানদেরকেও জাওয়াহেরি হত্যায় সঙ্গে রাখার দাবি করতে পারে মার্কিন সরকার! কারণ আফগানিস্তানের যে অর্থ সম্পদ মার্কিন সরকার আটকে রেখেছে তার কিছু অংশ সম্প্রতি ছেড়ে দেয়ার পর পরই জাওয়াহিরিকে হত্যা করেছে সিআইএ। আর ওই অর্থ ছাড়ের অন্যতম মূল্য হিসেবে জাওয়াহিরিকে বলির পাঠা করা হল! #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৩