বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব কুদস দিবস
https://parstoday.ir/bn/news/world-i13480-বিশ্বের_৮০টিরও_বেশি_দেশে_পালিত_হচ্ছে_বিশ্ব_কুদস_দিবস
আজ ইরানসহ বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব কুদস দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জুলাই ০১, ২০১৬ ১৪:৪২ Asia/Dhaka

আজ ইরানসহ বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব কুদস দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি সমর্থন, মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসাকে মুক্ত করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং দখলদার ও বর্ণবাদী ইসরাইলের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ এই বার্ষিকী পালনের কয়েকটি প্রধান উদ্দেশ্য।

তেহরানসহ ইরানের প্রায় ৯০০ শহরের সড়কগুলোয় ছিল আজ উপচে-পড়া প্রতিবাদী জনতার ভিড়। ইসরাইল ও মার্কিন বিরোধী শ্লোগানে মুখরিত ছিল তাদের শোভাযাত্রা এবং সমাবেশ। এ ছাড়াও ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শ্লোগান এবং ইসলামী ঐক্যের আহ্বানও ছিল এবারের কুদস দিবসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ইসলাম, মুসলমান এবং ইসলামী ঐক্যের বিরুদ্ধে তাকফিরিবাদ ও ইহুদিবাদ আজ একই মুদ্রার দুই পিঠে পরিণত হয়েছে।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাকফিরি সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ফিলিস্তিনি জাতির অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গটিকে ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু তাদের সেই আশাকে দুরাশায় পরিণত করতে দৃঢ়-সংকল্প সচেতন মুসলমানরা।

পবিত্র রমজান মাসে প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে ইরানের সর্বস্তরের জনগণ অংশ নিয়েছেন আজকের এই বার্ষিক শোভাযাত্রায়। মুসলমানদের পাশাপাশি ইরানের ইহুদিসহ সংখ্যালঘু অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনও মিছিলে অংশ নিয়ে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তারা ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর জাওয়াদ জারিফ, নীতি-নির্ধারনী পরিষদের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশিমি রাফসানজানি, ইরানের সংসদের স্পিকার ডক্টর লারিজানি ও বিচার-বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ লারিজানি কুদস দিবসের র‍্যালিতে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়াও শোভাযাত্রায় শরিক হয়েছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রহিম সাফাভিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানি জনগণ এই বার্তা দিচ্ছে যে, ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিলিস্তিনি জনগণ একা নয়। তিনি বলেন, ইসরাইল হচ্ছে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক বলদর্পী শক্তির আঞ্চলিক ঘাঁটি; তারা কোনো নিয়মনীতি ও আইন-কানুনের তোয়াক্কা করে না। ফিলিস্তিনি জাতির প্রতিরোধ অবশ্যই বিজয়ী হবে বলেও রুহানি মন্তব্য করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ ইসরাইলকে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সমস্যা ও বিশ্ব-শান্তির প্রতি প্রধান হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন। তেহরানের সমাবেশ শেষে চূড়ান্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে-অধিকৃত ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্ব থাকা পর্যন্ত মুসলমানদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম দেশে উগ্র সালাফি ও তাকফিরিদিরে বর্বরতা এবং প্রক্সি-যুদ্ধের নিন্দা জানানো হয়।

ইরাক ও সিরিয়ায়ও প্রতিবাদী জনতা সোচ্চার হয়েছেন ফিলিস্তিনি জাতির সমর্থনে। তারা ফিলিস্তিন সংকটকে মুসলিম বিশ্বের প্রধান সংকট বলে মন্তব্য করেন।

বাহরাইনেরও কোনো কোনো অঞ্চলে ফিলিস্তিনি জাতির সমর্থনে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইয়েমেনের জনপ্রিয় আন্দোলন আনসারুল্লাহর প্রধান সাইয়্যেদ আবদুল মালিক হুথি কুদস দিবসের প্রাক্কালে গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি ইয়েমেনের সমর্থন নিরেট ও অবিচল। তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলকে পরাজয়ের প্রথম তিক্ত স্বাদ দানকারী লেবাননের হিজবুল্লাহকে ইয়েমেনি জাতির জন্য গর্ব বলেও অভিহিত করেন। সাইয়্যেদ আবদুল মালিক ইহুদিবাদী ইসরাইলকে মুসলিম জাতিগুলোর অভিন্ন শত্রু বলে অভিহিত করেন। মুসলমানরা তাদের প্রথম কিবলা কুদসকে ধর্মীয় পবিত্রতার অংশ হিসেবে কখনও ভুলতে পারে না বলে মন্তব্য করেন।

প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭৯ সালে এই দিবস চালু করেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র)। সেই থেকে ইরানের ইসলামী নেতৃবৃন্দ ইহুদিবাদী দখলদারদের কবল থেকে ফিলিস্তিন ও মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসাকে মুক্ত করতে বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৪৮ সালে জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দাসের অংশ-বিশেষ দখল করে। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহরটি দখল করে নেয় ইসরাইল। ইসরাইল বর্তমানে এই শহরকে তার রাজধানী বলে উল্লেখ করে থাকে। জাতিসংঘের ইশতেহার ও প্রস্তাব অনুযায়ী ইসরাইল ১৯৬৭ সালে দখল করা সব অঞ্চল ছেড়ে দিতে বাধ্য এবং আলআকসা মসজিদের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বও অবৈধ।

আরব ও মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হলে পুরো ফিলিস্তিনকে দখলমুক্ত করা বহু বছর আগেই সম্ভব হত। মরহুম ইমাম খোমেনী বলেছিলেন, মুসলমানরা যদি এক বালতি করে পানি ঢেলে দেয় তাহলে ইসরাইল ভেসে যাবে তথা ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মিশর ও জর্দানসহ পশ্চিমাদের তাবেদার মুসলিম সরকারগুলো বিভিন্ন সময়ে অর্থ ও ক্ষমতার লোভে ফিলিস্তিনি জাতির স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ-রফার আহ্বানই এর দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে ইসলামী ইরান ও সিরিয়ার মত স্বাধীনচেতা সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ না করায় এবং ইসরাইলি জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখায় পাশ্চাত্য ও তাদের তাবেদারদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা, শত্রুতা ও বাধার শিকার হয়েছে। #

পার্সটুডে/মু. আ. হুসাইন/১