ইসরাইলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের পুড়িয়ে মারা, জাপানে আমেরিকার গণহত্যার নমুনা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i135994-ইসরাইলের_মাধ্যমে_ফিলিস্তিনি_নাগরিকদের_পুড়িয়ে_মারা_জাপানে_আমেরিকার_গণহত্যার_নমুনা
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘরে ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাদের অগ্নিসংযোগকারী বোমা হামলায় প্রতি ঘন্টায় তিন নারী শহীদ হচ্ছেন এবং সেই সঙ্গে তারা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। বোমা হামলায় ধ্বংস স্তুপে পরিণত হওয়া বাড়িঘর থেকে বের হয়ে আসা পুরুষের চেয়ে নারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২৫, ২০২৪ ১৭:৩৯ Asia/Dhaka
  • ইসরাইলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের পুড়িয়ে মারা, জাপানে আমেরিকার গণহত্যার নমুনা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘরে ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাদের অগ্নিসংযোগকারী বোমা হামলায় প্রতি ঘন্টায় তিন নারী শহীদ হচ্ছেন এবং সেই সঙ্গে তারা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। বোমা হামলায় ধ্বংস স্তুপে পরিণত হওয়া বাড়িঘর থেকে বের হয়ে আসা পুরুষের চেয়ে নারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এই অঞ্চলের পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে প্রায় ৬০ হাজার গর্ভবতী মহিলা কোনও চিকিৎসা সরঞ্জাম বা চেতনানাশক ছাড়াই সন্তান প্রসব করেছেন এবং কমপক্ষে ২১ জন মহিলা অনাহারে মারা গেছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নারী বিষয়ক মন্ত্রী আমাল হামাদ বিশ্বাস করেন যে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদীদের হামলা পরিকল্পিত এবং তা গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের কাঠামোর মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, "ফিলিস্তিনি নারীরা মৃত ও আহতদের মধ্যে তাদের মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। তা বিমান হামলার কারণে হোক বা ক্ষুধা-তৃষ্ণা বা রোগের কারণে হোক।" এই মডেলের একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, জাতিগত এবং লিঙ্গ নির্মূলে ইসরাইলের আচরণ জাপানে ১৯৪৫ সালে ৯ মার্চে আমেরিকান স্টাইল হত্যাকাণ্ড থেকে সৃষ্ট।  গণহত্যার এই পদ্ধতিতে আবাসিক বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে সেখানে  ধ্বংস, ধোঁয়া এবং আগুনের সৃষ্টি করা হয়। বোমা হামলা থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় বেসামরিক নাগরিকরা বিশেষ করে মহিলারা যে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তা জেনে এটি চালানো হয়।

ইসরাইল ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালচ্ছে

এই গণহত্যার কাহিনী জাপানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার

জাপানের বিরুদ্ধে হামলার ধরন নিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীতে দুটি মত বিদ্যমান ছিল। একদল অপ্রয়োজনীয় হতাহতের ঘটনা ঠেকাতে তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালাত । অন্যটির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধকে ব্যাপক এবং উচ্চ-ক্ষতিপূর্ণ বোমা হামলার দিকে ঠেলে দেওয়া এবং যোদ্ধা পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের হত্যা করা। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলার বিরোধিতা করেছিল তারা সাধারণত পরবর্তী দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেছিল.

পিঠে শিশু বহনকারী জাপানি নারীর পোড়া দেহ

১৯৪৫ সাল পর্যন্ত প্রথম দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী দলটি ক্ষমতায় ছিল কিন্তু ইউএস এয়ারফোর্সে একজন কমান্ডার ছিলেন যিনি কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। মার্কিন জেনারেল কার্টিস লুমি বিশ্বাস করতেন যে সময় নষ্ট করা উচিত নয় এবং জাপানকে সর্বাত্মক বোমাবর্ষণে পরাজিত করা যেতে পারে।

তিনি বলেছিলেন: "এই কৌশলে হতাহতের সংখ্যা অবশ্যই এত বেশি হতে হবে যে জাপানের আর প্রতিরোধ করার শক্তি থাকবে না।"

জাপানি জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকার মিটিংহাউস অপারেশনের পরে দেশটির নাগরিকদের পুড়ে যাওয়া দেহাবশেষ

ইতিমধ্যে, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরিগুলো ১৯৪২ সালের দিকে একটি পদার্থ উদ্ভাবন করেছিল যা অদ্ভুতভাবে অগ্নিসংযোগকারী ছিল। তা ন্যাপলম" নামক একটি জেলির মতো পদার্থ যা এর কয়েক ফোঁটা যেকোনো উপাদানের প্রায় ৪ বর্গমিটার পুড়িয়ে ফেলতে পারে। নাপাল্প জল-প্রতিরোধী এবং তা কালো ও শ্বাসরোধকারী ধোঁয়া তৈরি করে এবং মহিলাদের ফুসফুসের উপর আরও কার্যকর।

ন্যাপলম বোমা আঘাত হানার মুহূর্ত

এসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ন্যাপলম এরপর সামরিক এবং যুদ্ধ শিল্পে ব্যবহারের জন্য একটি উপযুক্ত বিকল্প হয়ে উঠেছে। এটি এমন এক বিকল্প পদ্ধতি যা  শত্রু এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করতে পারে।

এসব বিবরণ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টিকে উপেক্ষা করা উচিত নয় তা হলো সেই দিনগুলোতে জাপানে বেশিরভাগ বাড়িগুলো কাঠ থেকে তৈরি করা হয়েছিল।

ফলে নতুন অস্ত্রের ধ্বংস এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জেনারেল লুমি আমেরিকায় জাপানি বাড়িঘরগুলোর অনুরূপ মডেল তৈরি এবং তাদের উপর ন্যাপালম বোমা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। আমেরিকায় অগ্নিসংযোগকারী বোমা পরীক্ষার ফলাফল ছিল বিস্ময়কর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে যে এই পদক্ষেপ জাপানে অভূতপূর্ব ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাবে।

বেসামরিক এলাকায় মার্কিন হামলার পর কোশিরোতে জ্বলন্ত ভবন থেকে ধোঁয়ার বিশাল মেঘ উঠছে।

এরপর খুব শীঘ্রই ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস বোমার সঙ্গে ন্যাপালম বোমাগুলো জাপানের মাটিতে ফেলার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার বোমারু বিমানের অবস্থানে পাঠানো হয়েছিল। ৩৩৫টি মার্কিন বোমারু বিমান ধ্বংসাত্মক অভিযান চালানোর জন্য সব ধরণের আগুন সংযোগকারী বোমা দিয়ে সজ্জিত ছিল।

জাপানে আমেরিকান ফসফরাস বোমার ব্যবহার

এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৯৪৫ সালের ৯ মার্চ মধ্যরাতে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ থেকে জঙ্গি বিমান দিয়ে এই অভিযান শুরু হয়। জেনারেল লোমি মধ্যরাতে অপারেশন চালানোর ক্ষেত্রে দুটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করেছিলেন। প্রথমত পূর্বাভাস অনুসারে সেই সময়ে বাতাস এমন একটি দিকে প্রবাহিত হচ্ছিল যে এটি যাতে আগুনের ঘূর্ণিবায়ু যুক্ত শিখা তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, বেসামরিক লোকজন বিশেষ করে নারীদের টার্গেট করা যারা তখন বাড়িতেই ছিল। ফলে এতে আরও জাপানি নিহত হবে। টোকিওতে বোমাবর্ষণে সময় লেগেছিল প্রায় ৬ ঘণ্টা। সবকিছু পরিকল্পনা মতোই ঘটেছিল এবং সেই ৬ ঘণ্টায় শহরের অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়। মার্কিন বিমান বাহিনী জাপানের জনগণের ওপর প্রায় ১৭ লাখ কিলোগ্রাম অগ্নিসংযোগকারী বোমা ফেলেছিল।

কেউ কেউ মনে করেন যে এই ৬ ঘন্টা মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘন্টাগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে সময় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল। এটি এমন এক ভয়ঙ্কর অভিযান ছিল যা বোমার শক্তি এবং সংখ্যা হিরোশিমা এবং নাগাসাকির পারমাণবিক বোমার থেকেও বেশি ছিল। শত শত বেসামরিক লোক দগ্ধ বা আহত এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছিল।

জাপানি নাগরিকদের শরীরে ফসফরাস বোমার প্রভাব

টোকিও বোমাবর্ষণ থেকে আমেরিকা যে সুফল পেয়েছিল তা এতটাই কাঙ্খিত ছিল যে কার্টিস লোমি পরবর্তী মাসগুলোতে জাপানের ওসাকা, কোবে শহরে এবং দেশটির শিল্প বন্দরগুলোতে একই ধরনের অভিযান চালায় এবং এই শহরগুলোর প্রায় ২০ থেকে ৭০ শতাংশ  এর অধিবাসীসহ পুড়িয়ে দেয়।

লক্ষণীয় বিষয় হল যে তার ধ্বংসাত্মক "সাফল্যের" জন্য তাকে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডিং জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এখন গাজা যুদ্ধে বাস্তব পরিস্থিতি এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইহুদিবাদী ইসরায়েল জাপানি জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের পাশবিক মডেল ব্যবহার করছে এবং গোপনে ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং নারীদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের এই মডেলটি বাস্তবায়ন করছে।

গাজা যুদ্ধের প্রথম ৮৯ দিনের মধ্যে ইসরাইল শহরটিতে ৬৫ হাজার টন বোমা ফেলেছিল। যুদ্ধের পর ১৭০ দিন কেটে গেছে।

এটা দেখা যাচ্ছে যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং অপরাধীরা একই পদ্ধতি অনুসরণ করে নিরপরাধ লোকদের শিকার করছে। কিন্তু মিডিয়া শুধু তাদের কথা বলছে যাদের  ক্ষমতাসীন মালিকরা পছন্দ করে সেটা জাপান বা ফিলিস্তিন যাই হোক না কেন। এই নিবন্ধের অংশ ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা থেকে নেয়া হয়েছে।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।