ইরাক-কুয়েত তথা উপসাগরীয় যুদ্ধ
আপনারা অনেকেই জানেন যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫৯৮ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে শেষ হয়েছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধ।৮ বছর ধরে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে বিপুল অংকের বৈদেশিক দেনার দায়ে ইরাকের অর্থনৈতিক দৈন্যতা শোচনীয় হয়ে পড়ে।
সাদ্দাম সরকার যুদ্ধের অজুহাতে মার্কিন ও পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উন্নত সমরাস্ত্র পেয়েছিল এবং এমনকি অপ্রচলিত গণ-বিধ্বংসী অস্ত্রও পেয়েছিল আগ্রাসী এই সরকার।
কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় দশ লাখ। যুদ্ধের সুবাদে দেশটির সামরিক শিল্প ব্যাপক মাত্রায় বিস্তৃত হয়েছিল। কিন্তু এই শিল্পকে দেশটির নড়বড়ে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে এই বিপুল সংখ্যক সেনা ও অস্ত্র শিল্প বাথিস্ট সাদ্দাম সরকারের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধেই মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। অন্যদিকে মার্কিন সরকার ও তার মিত্ররাও অস্ত্রের গুদামে পরিণত হওয়া ইরাককে তাদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছিল। আর এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় ছিল নতুন কোনো সামরিক হঠকারিতা। এমন এক পরিস্থিতিতে সাদ্দামের বাহিনী ১৯৯০ সালের দোসরা আগস্ট কুয়েতে হামলা করে এবং মাত্র ১৩ ঘণ্টার মধ্যে দেশটির সমস্ত অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
কুয়েতে সাদ্দামের হামলার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরাকের অর্থনৈতিক দৈন্যতা ও অচলাবস্থা কাটিয়ে তোলা। সাদ্দাম সরকারের বক্তব্য ছিল এটা যে ইরানের বিরুদ্ধে তার বাহিনীর যুদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য অনুকূল বা উপকারী হওয়ায় কুয়েতের উচিত বাগদাদের কাছ থেকে তার পাওনা তিন হাজার কোটি ডলার পুরোপুরি মাফ করে দেয়া। কিন্তু কুয়েত দেনা মাফ করা সংক্রান্ত সাদ্দামের এই আবদার রক্ষা না করায় দেখা দেয় উত্তেজনা। এ ছাড়াও ইরাকের পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা সাদ্দামের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই সাদ্দাম তেলের উৎপাদন কমিয়ে আনতে তেল রপ্তানিকারক আরব দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের যেসব দেশ সাদ্দামের এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করতে থাকে তাদের মধ্যে অগ্রগামী ছিল কুয়েত। এমনকি কুয়েত ওপেকের বেধে দেয়া উৎপাদন কোটা লঙ্ঘন করে তেলের উৎপাদন ও রপ্তানি আরো বাড়িয়ে দেয়। ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ইরাকের তেল-রপ্তানি খাতের আয়ও কমে যায়। সাদ্দাম এই পরিস্থিতির জন্য কুয়েতকে দায়ি করে এবং কুয়েত সরকারের এই পদক্ষেপকে ইরাক ও আরব বিশ্বের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করে।
সাদ্দাম হোসেন ১৯৯০ সালের ১৭ জুলাই এক বিবৃতিতে ইরাকের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলছে বলে উল্লেখ করে। আর এই বিবৃতির পরই ইরাকের একদল সেনা সীমান্ত বিরোধের অজুহাতে কুয়েত সীমান্তের দিকে যায়।
সাদ্দাম সরকারের এইসব তৎপরতার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের নীতি ছিল দ্বিমুখী ও কপটতাপূর্ণ। ফলে সাদ্দাম সরকারের মধ্যে এ ধারণা জন্ম নেয় যে, ইরাক কুয়েত দখল করে বসলে মার্কিন সরকার সম্ভবত কোনো হস্তক্ষেপ বা আপত্তি করবে না। যেমন, ১৯৯০ সালের ২৪ শে জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মুখপাত্র বলে: কুয়েতের সঙ্গে মার্কিন সরকারের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই এবং কুয়েতের ব্যাপারে আমেরিকার কোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকারও নেই।

১৯৯০ সালের ২৫শে জুলাই ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতু কুয়েত সীমান্তে ইরাকি সেনাদের এক সমাবেশে বলেছিল: 'আরব দেশগুলোর সীমান্ত-বিরোধে, যেমন- ইরাক ও কুয়েতের সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের বিশেষ কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব নেই; আমরা কুয়েত ও ইরাকের সঙ্গে আরো ভালো এবং বিস্তৃত সম্পর্ক গড়তে চাই। জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ২৫ ডলারের বেশি হওয়া উচিত বলে সাদ্দাম হোসেন যে আহ্বান জানাচ্ছেন তাতে আমাদের (মার্কিন সরকারের) সমর্থন রয়েছে।'
এ ছাড়াও, ৩১ শে জুলাই মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধি পরিষদের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপ-কমিটিতে বলেছিলেন যে, ইরাক-কুয়েত বিরোধের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছে মার্কিন সরকারের নেই। ফলে কুয়েতে হামলা করার ব্যাপারে সাদ্দামের মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। অবশেষে ইরাকি সেনারা ১৯৯০ সালের দোসরা আগস্ট কুয়েতে হামলা চালিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো দেশটি দখল করে বসে। কিন্তু কুয়েতে ইরাকি হামলার পরপরই মার্কিন সরকার বিগত মাসগুলোর অস্পষ্ট এবং ওই হামলার প্রতি সম্ভাব্য সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিতসূচক নীতির আবরণ খুলে ফেলে। বরং হোয়াইট হাউজ ইরাকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তোলার কাজে নেতৃত্ব দিতে থাকে। কুয়েতে ইরাকি হামলার দিনই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক প্রস্তাব পাশ করে ওই হামলার নিন্দা জানায়। ওই প্রস্তাবে বিনা শর্তে কুয়েত থেকে ইরাকি সেনা ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানানো হয়। আরব বিশ্বের নেতারা এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করতে থাকেন। কিন্তু তাদের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে এই সংকটকে ঘিরে ইরাকের সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর রাজনৈতিক এবং সামরিক জোট গড়ে উঠতে থাকে।
১৯৯০ সালের ৮ই আগস্ট সাদ্দাম কুয়েতকে ইরাকের ১৯তম প্রদেশ বলে ঘোষণা করে। প্রদেশটির নাম দেয়া হয় আলকাজিম। পরের দিন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরাকের ওই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে। এ অবস্থায় সৌদি সরকারসহ পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য আরব সরকারগুলো ইরাকি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সেনা সমাবেশের আহ্বান জানায়। আরব লিগও এক প্রস্তাব পাশ করে ওই আহবানে সাড়া দেয়।
এভাবে সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধে আরব সরকারগুলোর একটি জোট গড়ে ওঠে মার্কিন সরকারের নেতৃত্বে। ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসের শেষ প্রান্তে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মার্কিন সরকারের চাপের মুখে ৬৭৮ নম্বর প্রস্তাব পাস করে। ওই প্রস্তাবে কুয়েতকে ইরাকের দখলমুক্ত করার জন্য বল প্রয়োগের আশ্রয় নেয়া বৈধ বলে উল্লেখ করা হয়।
২.আগের পর্বের আলোচনায় আমরা ইরাক ও কুয়েতের যুদ্ধ তথা উপসাগরীয় যুদ্ধের পটভূমি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমরা দেখেছি কিভাবে মার্কিন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা কুয়েতে ইরাকের সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে সাদ্দাম সরকারকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে এবং এ ধরনের হামলা চালাতে উৎসাহ যুগিয়েছে। যেমন, ১৯৯০ সালের ২৪ শে জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছিলেন: কুয়েতের সঙ্গে মার্কিন সরকারের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই এবং কুয়েতের ব্যাপারে আমেরিকার কোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকারও নেই। ১৯৯০ সালের ২৫ শে জুলাই ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বলেছিলেন: 'আরব দেশগুলোর সীমান্ত-বিরোধে, যেমন- ইরাক ও কুয়েতের সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের বিশেষ কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব নেই। জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ২৫ ডলারের বেশি হওয়া উচিত বলে সাদ্দাম হোসেন যে আহ্বান জানাচ্ছেন তাতে মার্কিন সরকারের সমর্থন রয়েছে।' কয়েক দিন পর মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছিলেন একই কথা। এ অবস্থায় ইরাকি সেনারা ১৯৯০ সালের দোসরা আগস্ট কুয়েতে হামলা চালিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো দেশটি দখল করে বসে।
কিন্তু কুয়েতে ইরাকি হামলার পরপরই মার্কিন সরকার ওই হামলার প্রতি সম্ভাব্য সমর্থন দেয়ার ইঙ্গিতসূচক নীতির ত্যাগ করে। বরং ওয়াশিংটন বাগদাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তোলার কাজে নেতৃত্ব দিতে থাকে।
১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসের শেষ প্রান্তে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মার্কিন সরকারের চাপের মুখে ৬৭৮ নম্বর প্রস্তাব পাশ করে। ওই প্রস্তাবে কুয়েতকে ইরাকের দখলমুক্ত করার জন্য বল প্রয়োগের আশ্রয় নেয়া বৈধ বলে উল্লেখ করা হয়।
১৯৯১ সালের ১৭ ই জানুয়ারি ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট ইরাক ও কুয়েতে বিমান হামলা শুরু করে। কুয়েত মুক্ত করার কথিত ওই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছিল 'ডেজার্ট স্টর্ম বা মরুভূমির ঝড়'। বিমান হামলায় ব্যবহার করা হয় দুই হাজার ৯০০টি জঙ্গি বিমান। ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ইরাকি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাতে ১২ হাজার উড্ডয়ন চালায় এইসব জঙ্গি বিমান।
৩৮ দিন ধরে বিমান হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশের নির্দেশে ১৯৯১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থল অভিযান শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট। কুয়েত থেকে ইরাকি সেনা তাড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানের নাম দেয়া হয় মরুভূমির তরবারি বা ডেজার্ট সোর্ড। মাত্র চার দিনেই কুয়েতকে ইরাকি সেনাদের হাত থেকে মুক্ত করে বহুজাতিক বাহিনী। ইরাক ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত প্রস্তাবগুলো মেনে নিয়ে যুদ্ধ-বিরতিতে সম্মত হয়।
আসলে ইরাক বিরোধী জোট তেল-সমৃদ্ধ এই দেশে তাদের হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেয়ার জন্যই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে হাতিয়ার বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল। মূলত এই পরিষদ মার্কিন সরকারের ক্রীড়ণকে ও মার্কিন সরকারের স্বার্থ রক্ষার পরিণত হয়েছিল। উপসাগরীয় যুদ্ধ মার্কিন পরিচালনায় এবং মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোট উপসাগরীয় যুদ্ধে মারাত্মক তেজস্ক্রিয় অস্ত্রও ব্যবহার করেছিল। যেমন, মার্কিন নানা অস্ত্রে থাকতো ইউরেনিয়াম। মার্কিন সেনারা এই যুদ্ধে ইরাকি জনগণের ওপর ইউরেনিয়ামযুক্ত পাঁচ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ইরাকিদের টার্গেট করে মার্কিন 'টেন ফেয়ারচাইল্ড-এ' কামান থেকে ছোঁড়া হয়েছে ত্রিশ মিলিমিটার সাইজের নয় লাখ চল্লিশ হাজার গোলা। এইসব গোলাও ছিল তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ। নানা পরিসংখ্যান ও রিপোর্টে দেখা গেছে, এইসব অস্ত্র ব্যবহারের ফলে এ অঞ্চলে তিন থেকে ছয় মিলিয়ন গ্রাম দুর্বল ইউরেনিয়াম শস্য কণার মত ভাসমান হয়েছে এবং এর ফলে গোটা অঞ্চলের মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হয়।
এভাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতি জোটের সেনারা ইরাকের জনগণকে বিধ্বস্ত করার মাধ্যমে সাদ্দামকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেজস্ক্রিয় অস্ত্রের দূষণের কারণে ইরাকে আগামী তিন প্রজন্ম পর্যন্ত বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেবে। কারণ, এইসব তেজস্ক্রিয় অস্ত্রের তেজস্ক্রিয়তা ১০০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইরাকের ছয়টি অঞ্চলের গাছপালা স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় তিন গুণ বেশি তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এইসব অঞ্চলের বেশিরভাগ গাছ ও এক তৃতীয়াংশ জীবজন্তু দূষিত হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৭০ শতাংশই তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হয়েছে। ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার কারণে দেখা দিচ্ছে নানা ধরণের ক্যান্সার, চর্ম রোগ, স্নায়বিক সমস্যা এবং জেনিটিক ও ক্রোমোজমিক বৈকল্য। শারীরিক নিরাপত্তায় ব্যাঘাত এবং দুই-তিন মাথাযুক্ত শিশুসহ নানা ধরনের বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেয়াও এই যুদ্ধের অন্যতম পরিণতি।
অবশ্য উপসাগরীয় যুদ্ধের এইসব বাস্তবতার বেশিরভাগই যুদ্ধের সময় এবং এর পরও বহু বছর ধরে গোপন রাখা হয়েছে। পশ্চিমা প্রচারমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচার করতে না পারায় অন্য অনেক যুদ্ধের মতই উপসাগরীয় যুদ্ধের নানা বাস্তবতাও দীর্ঘকাল গোপন থেকেছে। মূলত পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর একপেশে প্রচারণার কারণেই এই যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল এবং মার্কিন জনগণসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলের অনেক জনগণ মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই মোড়লীপনা ও যুদ্ধকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো এমন সংবাদ প্রচার করেছিল যে ইরাকি সেনারা কুয়েতের একটি হাসপাতালে তাপ-সঞ্চারক ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখায় অনেক শিশু মারা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে, হাসপাতাল সংক্রান্ত ওই খবর শুনে সেখানকার নার্সরা বিস্ময় প্রকাশ করেছিল। পরে জানা গেছে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত কুয়েতি রাষ্ট্রদূতের ১৫ বছরের মেয়ে ছিল এই খবরের উৎস এবং তাকেই হাসপাতালের নার্স বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল মার্কিন কংগ্রেসে। শিশুদের হত্যা করা নিয়ে এমন অনেক গাল-গল্প হর হামেশাই রচনা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গার্ডিয়ান পত্রিকার ওই নিবন্ধের লেখক।
এভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিকূল জনমত ও ঘৃণা সৃষ্টিতে খুবই পারদর্শী পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। আর বিশ্বের নানা অঞ্চলে মার্কিন সরকারের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে নানা যুদ্ধের পরিবেশ তৈরির জন্য এমনসব গুজব বার বার রটানো হয়েছে। কয়েক দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এ ধরনের অনেক দৃষ্টান্ত দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার সরকারি সেনাদের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে শত শত শিশু হত্যার মিথ্যা অপবাদই এর বড় দৃষ্টান্ত। #
পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/৮