গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী সংশয়; ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সত্যিকারের শান্তি আনবে না
-
নেসেটে ট্রাম্প
পার্সটুডে-যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় গাজা উপত্যকায় দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে।
তারপরও বিশ্লেষকরা মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রতিশ্রুতি এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনবে না। কেননা এটা যতোটা না বাস্তব তার চেয়ে বেশি প্রচারমূলক।
লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা এক বিশ্লেষণে লিখেছে, ২০ জনেরও বেশি বিশ্ব নেতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শারমুশ-শেখ বৈঠক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি সামরিক সংঘর্ষের অবসান ঘটালেও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে কোনো সুস্পষ্ট পথ দেখায় না বরং গাজাকে পশ্চিম তীর থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার হুমকি সৃষ্টি করে।
পত্রিকাটি লিখেছে যে, নেসেটে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই চুক্তিকে একটি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন এবং ইসরাইলের ব্যর্থতা গোপন করার জন্য একটি প্রচারমূলক প্রদর্শনী করেছেন। কিন্তু গাজায় ব্যাপক ধ্বংসাবশেষ, পুনর্নির্মাণ কর্মসূচির অভাব এবং ওয়াশিংটনের প্রতি জনসাধারণের অবিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে যে এই যুদ্ধবিরতির আরও কিছু অজানা দিকও রয়েছে।
গার্ডিয়ান আরও লিখেছে, যে পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি জনগণের সার্বভৌমত্বের অধিকারকে উপেক্ষা করে এবং তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে, তা বৈধ ও স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না। গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা, খাদ্য ও ওষুধের ব্যবস্থা অপরিহার্য, কিন্তু সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থা না থাকলে এই অন্যায় পরিস্থিতি কেবলই অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী গঠন করা হবে। গাজার রাস্তায় লক্ষ লক্ষ শরণার্থী এখনও অবশিষ্ট থাকায় এ অঞ্চলের অধিবাসীদের বাড়ি, স্কুল এবং হাসপাতাল পুনর্নির্মাণের জন্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজন।
গার্ডিয়ান লিখেছে, যুদ্ধবিরতি, বন্দীদের প্রত্যাবর্তন এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রেকর্ড দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এনএম/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।