নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন ঘিরে ইসলামবিদ্বেষের ঝড়, ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়ছেন মামদানি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i153374-নিউইয়র্কের_মেয়র_নির্বাচন_ঘিরে_ইসলামবিদ্বেষের_ঝড়_ঘৃণার_বিরুদ্ধে_লড়ছেন_মামদানি
পার্সটুডে: সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের শহর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রবল ইসলামোফোবিয়ার (ইসলামবিদ্বেষ) মুখোমুখি হয়েছে। এই ঘৃণার ঢেউ বিশেষভাবে তীব্র হয়েছে যখন মুসলিম ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জাহরান মামদানি মেয়র পদে জয়ের পথে এগিয়ে আছেন।
(last modified 2026-02-17T14:37:08+00:00 )
অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ১৬:৩৯ Asia/Dhaka
  • জাহরান মামদানি
    জাহরান মামদানি

পার্সটুডে: সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের শহর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রবল ইসলামোফোবিয়ার (ইসলামবিদ্বেষ) মুখোমুখি হয়েছে। এই ঘৃণার ঢেউ বিশেষভাবে তীব্র হয়েছে যখন মুসলিম ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জাহরান মামদানি মেয়র পদে জয়ের পথে এগিয়ে আছেন।

মামদানি একজন উগান্ডা–ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম, যিনি 'ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট' হিসেবে পরিচিত। তিনি সস্তা বাসস্থান, বিনামূল্যে গণপরিবহন ও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনার মতো প্রগতিশীল অবস্থানের কারণে এখন বিভিন্ন দিক থেকে তীব্র আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই আক্রমণগুলোর অনেকটাই ইসলামবিদ্বেষমূলক।

এই পরিবেশ শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারণাকেই উত্তপ্ত করেনি, বরং নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যারা শহরের জনসংখ্যার প্রায় ৯% (প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ)।

নিউইয়র্কে ইসলামোফোবিয়ার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, কিন্তু এই নির্বাচনী চক্রে মামদানির ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এটি তার উচ্চতায় পৌঁছেছে।

নিউ ইয়র্ক সেন্টার টু কমব্যাট ইসলামোফোবিয়া (NYCIC)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন মামদানি ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ের পর থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

কুইন্স ও ব্রুকলিনের মতো এলাকায় মামদানির পোস্টারগুলোতে 'সন্ত্রাসী', 'শরিয়া প্রবর্তনকারী' ইত্যাদি অপমানজনক শব্দ দিয়ে দিয়ে নষ্ট করা হয়েছে। এসব ঘটনা শুধু মামদানিকেই নয়, পুরো মুসলিম সমাজকে আতঙ্কিত করেছে।

এই পরিবেশের একটি বড় ঘটনা ঘটেছিল ২৩ অক্টোবর, যখন বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমো'র প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। অ্যাডামস বলেন, “নিউইয়র্কের দরকার এমন এক নেতা, যিনি সবাইকে একত্র করবেন — এমন কেউ নয়, যিনি বিভাজন সৃষ্টি করে শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবেন।”
যদিও তিনি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি, এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে মামদানির পুলিশ বাজেট কমানোর প্রস্তাব ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে ইঙ্গিত করছিল।

সিএআইআর-নিউইয়র্কের মতো নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলো এই বক্তব্যকে 'পরোক্ষভাবে ইসলামবিদ্বেষী' বলে আখ্যা দেয়, কারণ এতে মুসলিম পরিচয়কে 'বিভেদ সৃষ্টির' সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

অ্যাডামস কুওমোকে 'শহরকে বাঁচানোর জন্য একজন বিশ্বস্ত নেতা' হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, যা বিশ্লেষকরা মধ্যপন্থী ভোটার এবং ইহুদি সম্প্রদায়, যারা ফিলিস্তিন সম্পর্কে মামদানির অবস্থান থেকে অসন্তুষ্ট, তাদের আকর্ষণের প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

কুমো–কে সমর্থনকারী সুপার প্যাক গোষ্ঠীগুলো, যেমন প্রাক্তন মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ–এর তহবিলপ্রাপ্ত গোষ্ঠী, মামদানির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ৩.৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে মামদানিকে 'চরমপন্থী' বা 'অ-আমেরিকান' হিসেবে উপস্থাপন করতে- যা মুসলমানদের নিয়ে পুরোনো ভয়ের চিত্রই আবার তুলে ধরছে।

৯ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে কুইনিপিয়াক জরিপ দেখায় যে, ৪১% ইহুদি ভোটার কুওমোকে সমর্থন করেন, যখন মামদানি অভিবাসী-বংশোদ্ভূত ভোটারদের (বিশেষ করে এশিয়ান এবং ল্যাটিনো) মধ্যে ৬২% নিয়ে এগিয়ে আছেন। মামদানি এবং তার সমর্থকরা, যাদের মধ্যে রয়েছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং বার্নি স্যান্ডার্স, কংগ্রেসের প্রগতিশীল উইংয়ের ডেমোক্র্যাট সদস্য, তারা এই আক্রমণগুলোর নিন্দা করেছেন এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন এবং অর্থনৈতিক অসমতার মতো মূল বিষয়গুলো থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা হিসেবে এগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন।

ব্রঙ্কসে তার সাম্প্রতিক বক্তৃতায় মামদানি বলেছেন: "এই আক্রমণগুলো নীতির সম্পর্কে নয়, বরং আমার পরিচয় সম্পর্কে। আমি নিউ ইয়র্কের একজন অধিবাসী এবং এই শহর আমাদের সবার।" তিনি আন্তঃসম্প্রদায় সংলাপের ওপর জোর দেন এবং তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ঘৃণার জবাব না দেন।

এই ইসলামোফোবিক পরিবেশ, নির্বাচনে প্রভাব ছাড়াও, নিউইয়র্কে সহাবস্থানের ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নাগরিক সংগঠনগুলো ঘৃণাজনিত অপরাধের উপর বৃহত্তর নজরদারি এবং শিক্ষামূলক প্রচারণার দাবি জানিয়েছে। নির্বাচনের দিন যত কাছে আসছে, প্রশ্ন উঠছে- নিউইয়র্ক কি তার বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার ঐতিহ্য রক্ষা করবে নাকি ঘৃণা ও ভয়ের রাজনীতির কাছে নত হবে?#

পার্সটুডে/এমএআর/২৫