সোমালিয়ায় মার্কিন অপরাধযজ্ঞ পাশ্চাত্যের নির্মমতার আরেকটি চিত্র
https://parstoday.ir/bn/news/world-i153684-সোমালিয়ায়_মার্কিন_অপরাধযজ্ঞ_পাশ্চাত্যের_নির্মমতার_আরেকটি_চিত্র
পার্সটুডে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সোমালিয়ায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই পদক্ষেপগুলির সমালোচনা করেছে। পেন্টাগন যা ঘোষণা করেছে তার চেয়ে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
(last modified 2025-11-28T10:09:50+00:00 )
নভেম্বর ০৩, ২০২৫ ১৮:৪৮ Asia/Dhaka
  • • সোমালিয়ায় আমেরিকান ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি
    • সোমালিয়ায় আমেরিকান ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি

পার্সটুডে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সোমালিয়ায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই পদক্ষেপগুলির সমালোচনা করেছে। পেন্টাগন যা ঘোষণা করেছে তার চেয়ে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

পার্সটুডে জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর সোমালিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ তথাকথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই নীতির অংশ। এই হস্তক্ষেপ ২০০৭ সাল থেকে অব্যাহত রয়েছে এবং এতে বিমান অভিযান, গোয়েন্দা সহায়তা, স্থানীয় বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন বাহিনীর সাথে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল-শাবাব এবং আইসিসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার মার্কিন দাবি সত্ত্বেও, অসংখ্য প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় যে এই আক্রমণগুলির ফলে প্রায়ই বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয় এবং এই নৃশংসতার অনেক কিছুই পশ্চিমা মিডিয়া গোপন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে মোগাদিশুর যুদ্ধে, মার্কিন বাহিনীর হাতে শত শত সোমালি নিহত হয়েছিল।

ড্রোন হামলা

এই হস্তক্ষেপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির মধ্যে একটি হল মার্কিন সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলা, যা MQ-9 Reaper ড্রোন ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছিল। এই হামলাগুলি মূলত সোমালিয়ার মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে এবং তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের ধ্বংস করা। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা পেন্টাগনের সরকারী পরিসংখ্যানের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, বাল্ডউইন শহরে পরিচালিত একটি হামলায় পেন্টাগন দাবি করেছে যে মাত্র ১৩ জন আল-শাবাব সদস্য নিহত হয়েছে এবং কোনও বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়নি, তবে স্বাধীন সূত্র জানিয়েছে যে ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

এয়ারওয়ারস নামক একটি আন্তর্জাতিক বিমান হামলা পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৭ সাল থেকে ২০২২ সালের আগস্টের শেষ পর্যন্ত, মার্কিন সেনাবাহিনী সোমালিয়ায় ২৬০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের সংখ্যা নিশ্চিত করে পেন্টাগন দাবি করেছে যে তখন থেকে পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে। এদিকে, এয়ারওয়ার্স ইনস্টিটিউটের অনুমান, পেন্টাগন কর্তৃক নিশ্চিতকৃত হামলায় ২০ থেকে ২৩ জন শিশুসহ কমপক্ষে ৭৮ থেকে ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি

এয়ারওয়ার্স ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে সোমালিয়ায় মার্কিন সেনাবাহিনীর বোমা হামলা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেনি, বরং এটা আফ্রিকান দেশের জনগণের মধ্যে অস্থিতিশীলতা এবং ব্যাপক দারিদ্র্যকেও স্থায়ী করেছে। মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি, এই আক্রমণগুলি সোমালিয়ায় আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে এই পদক্ষেপগুলি সোমালি ফেডারেল সরকারকে সাহায্য করছে, কিন্তু অনেক বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান ছাড়াই বিদেশী সামরিক উপস্থিতি, সহিংসতা বাড়িয়েছে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করেছে। আল-কায়েদার সাথে যুক্ত আল-শাবাব গোষ্ঠী এই আক্রমণগুলিকে সৈন্য নিয়োগ এবং পশ্চিমা বিরোধী প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছে এবং কিছু এলাকায় তাদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ট্রাম্প এবং সোমালিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর, সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছিল আইএসকে লক্ষ্য করে, কিন্তু স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোতে বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে যা সরকারি বিবৃতিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনগুলিতে, মার্কিন সেনাবাহিনী সোমালিয়ায় আইএস অবস্থানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে এই আক্রমণগুলি "সুনির্দিষ্ট" ছিল এবং "বেসামরিক লোকদের কোনো ক্ষতি ছাড়াই" করা হয়েছিল। তবে, মানবাধিকার সংস্থা এবং স্থানীয় সূত্রগুলি ভিন্ন বিবরণ উপস্থাপন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুহা এবং আশেপাশের এলাকায় বোমা হামলার সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। সরকারী বর্ণনা এবং স্বাধীন প্রতিবেদনের মধ্যে এই বৈপরীত্য মার্কিন সেনাবাহিনীর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার দাবি করা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় মার্কিন হামলা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আরও বেশি মানুষের হতাহত এবং অবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে।

উপসংহার

সোমালিয়ায় মার্কিন হস্তক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ হ্রাস তো করেনি, বরং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জনসাধারণের অবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই হামলার বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও, অনেক মানবাধিকার কর্মী জোর দিয়ে বলেছেন যে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান ছাড়া এবং মানবিক পরিণতি বিবেচনা না করে বল প্রয়োগ মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।