ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংঘাতকে তীব্র করছে: চীনা বিশ্লেষক
https://parstoday.ir/bn/news/world-i153996-ইরানের_বিরুদ্ধে_মার্কিন_নিষেধাজ্ঞা_সংঘাতকে_তীব্র_করছে_চীনা_বিশ্লেষক
পার্সটুডে: একজন চীনা বিশ্লেষক বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সরাসরি ফল।
(last modified 2026-02-17T14:37:08+00:00 )
নভেম্বর ১৩, ২০২৫ ১৭:০০ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংঘাতকে তীব্র করছে: চীনা বিশ্লেষক

পার্সটুডে: একজন চীনা বিশ্লেষক বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সরাসরি ফল।

ইরানের সাথে সহযোগিতা করা চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি সম্পর্কে গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক 'লি হাইদং' বলেন: এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ওয়াশিংটনের 'বহির্ভূত আঞ্চলিক এবং একতরফা এখতিয়ার'-এর আরেকটি উদাহরণ, যা লক্ষ্যবস্তু করা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষতি করে।

গতকাল (বুধবার) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে, ওয়াশিংটন ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, চীন, হংকং, ভারত, জার্মানি ও ইউক্রেনে অবস্থিত ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনছে, যারা ইরানকে সহায়তাকারী বিভিন্ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে।

লি হাইদং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা অতিক্রম করে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের কারণে বহু প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ একতরফা নিষেধাজ্ঞাগুলো কেবল সংঘাত বাড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞাগুলো যুক্তরাষ্ট্র যেসব উদ্বেগের কথা বলে সেগুলো দূর করে না, বরং বাস্তবে ওয়াশিংটন যেসব সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে চায়, সেগুলোই আরও গুরুতর করে তোলে।

এ প্রসঙ্গে, চীনের সমাজবিজ্ঞান একাডেমির গবেষক লু শিয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো অস্পষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জারি করা হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু প্রতিষ্ঠান, তাদের কথিত কার্যক্রম বা অভিযোগের ধরন সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

লু শিয়াং আরও যোগ করেন, “ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর জটিলতার মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ভাবে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা থেকে সরে আসা। যদি ওয়াশিংটন সত্যিই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে তাদের উচিত হবে বহুপাক্ষিক কাঠামো ও ব্রাজাম জেসিপিওএ চুক্তিতে পুনরায় ফিরে এসে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তিতে ফিরে না আসে, ততক্ষণ চীনসহ অন্যান্য দেশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর সীমারেখা অতিক্রম করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ কেবল উত্তেজনা বাড়াবে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সীমারেখা অতিক্রমকারী নিষেধাজ্ঞার প্রতি তার সুস্পষ্ট বিরোধিতা জানিয়ে আসছে।

গত মাসে ইরানের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস রপ্তানিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চীনা কোম্পানিসহ ৫০টিরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি ও জাহাজের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র 'গুও জিয়াংকান' জোর দিয়ে বলেছিলেন, “বেইজিং এমন সব একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে, যেগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৩