ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সামনে দুই কঠিন পথ
-
ভলোদিমির জেলেনস্কি
পার্সটুডে: মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো'র এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে দু'টি অত্যন্ত কঠিন ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
পার্সটুডে জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যখন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং ইউরোপের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা সন্দেহ ও ধীরগতির মধ্যে আটকে গেছে, তখন জেলেনস্কির সামনে এখন দুটি পথ: ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাবিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা, অথবা ইউরোপীয় মিত্রদের সম্ভাব্য সহায়তার আশায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া—যে মিত্ররা এ পর্যন্ত দৃঢ় প্রতিশ্রুতির খুব কমই প্রমাণ দিয়েছে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জেনেভা আলোচনার পর ইউরোপীয় কূটনীতিকরা যদিও 'ভালো অগ্রগতি' দাবি করেছিলেন, সেই আশাবাদ বেশিক্ষণ টেকেনি। ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করে যে সংশোধিত খসড়া পাঠ তৈরি করা হয়েছিল, রাশিয়া তা দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করে। ফলে কিয়েভ আবারও এক গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ২৮ দফা মূল পরিকল্পনায় ফিরে যাওয়া। এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার কাছে ছাড় দেওয়া, ন্যাটোতে যোগদানের স্বপ্ন ত্যাগ এবং দেশটির সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি করা হয়েছে- যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তীব্র অসন্তোষের কারণ।
এ অবস্থায় জেলেনস্কি এক ঐতিহাসিক দ্বিধার সামনে দাঁড়িয়ে:
ট্রাম্প–পুতিনের প্রস্তাব মেনে নেবেন, নাকি ইউরোপের সম্ভাব্য সহায়তার আশায় যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। প্রায় চার বছর যুদ্ধের পরেও ইউরোপীয় মিত্ররা প্রয়োজনীয় সৈন্য ও অস্ত্র পাঠায়নি, এমনকি ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহার করতেও তারা আগ্রহ দেখায়নি।
রাশিয়ার অন্তত ১৪০ বিলিয়ন ইউরো জব্দকৃত সম্পদ 'ক্ষতিপূরণ ঋণ' হিসেবে ব্যবহারের যে ইউরোপীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ছিল, তা বেলজিয়ামসহ কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে ভেঙে পড়ার উপক্রম। সামরিক দিকেও চিত্র খুব ভিন্ন নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন 'আগ্রহীদের জোট' গঠন করে ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন- দেশের অভ্যন্তরীণ তীব্র বিরোধিতায় কার্যত থেমে গেছে।
এদিকে মার্কিন রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ গ্রেগ স্যানসনসহ অনেক সমালোচকের দাবি, ইউরোপীয়রা নিজেদেরকে বোকা বানাচ্ছে। তাদের মতে, পুতিনকে পরাস্ত করার একমাত্র পথ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিন্তু ইউক্রেনের কোনো মিত্রই সে লড়াই করতে প্রস্তুত নয়। এমন সমালোচনা তখনই উঠছে যখন ইউরোপ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে।
এই অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কির সামনে থাকা উভয় বিকল্পই অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ: কঠিন শর্তের একটি আরোপিত শান্তি, অথবা মিত্রদের অনিশ্চিত সহায়তার আশায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া—যে মিত্ররা হয়তো কখনোই 'যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত' হবে না।
ইউক্রেনের ভাগ্য এখন জেলেনস্কির সিদ্ধান্ত এবং পশ্চিমা বিশ্ব আসলে তার উদ্ধারে কতটা চাপ সহ্য করতে রাজি─ তার ওপর নির্ভর করছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৮