ট্রাম্পের ধোঁকাবাজি: ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি কেন অবাস্তব?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i155614-ট্রাম্পের_ধোঁকাবাজি_ইউক্রেন_যুদ্ধ_শেষ_করার_প্রতিশ্রুতি_কেন_অবাস্তব
পার্সটুডে: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকটি ছিল চমৎকার এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ১৯:২৩ Asia/Dhaka
  • ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকটি ছিল চমৎকার এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আলোচনা ভালো হয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পথে আমরা বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছি। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার সময় এসে গেছে; তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও একটি জটিল ও কঠিন সমস্যা।

এদিকে, ফ্লোরিডায় জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছিলেন, “এইমাত্র প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ভালো ও অত্যন্ত গঠনমূলক ফোনালাপ করেছি।”

ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভের বরাতে বলা হয়, ওই ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, রাশিয়া একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে চায় এবং ইউক্রেনকে ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডনবাস সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ট্রাম্প যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও চুক্তির সময় ঘনিয়ে আসার কথা বলছেন, ঠিক সেই সময়েই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে সতর্ক করে বলেছেন যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে রাশিয়া 'বলপ্রয়োগের মাধ্যমে' তার সব লক্ষ্য অর্জন করবে। পুতিন জানান, রুশ সশস্ত্র বাহিনী ডনবাস ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে। তার মতে, ২০১৪ সালে কিয়েভ সরকারই যুদ্ধ শুরু করেছিল এবং রাশিয়া কেবল সেটির অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছে।

সব ধরনের আলোচনা সত্ত্বেও মতবিরোধ এখনো গভীর। রাশিয়া ডনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে শান্তিতে পৌঁছানোর পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে এখনো এক বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধ রয়ে গেছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের ভূখণ্ড প্রশ্ন অন্যতম।

বাস্তবে, ইউক্রেনে শান্তি এখনও অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে রয়েছে এবং ট্রাম্পের দাবি এই সংকটের জটিল বাস্তবতাকে লুকাতে পারে না। ইউক্রেন গুরুতর সন্দেহের সম্মুখীন, রাশিয়া তার দাবিতে অনড়, ইউরোপের ক্ষমতা সীমিত এবং ট্রাম্প তার নিজস্ব শৈলীতে একজন সফল নেতার ছবি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হল শান্তির পথ এখনও বন্ধুর এবং অনিশ্চিত, এবং ট্রাম্পের বুলি এই বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারে না।

সামগ্রিক বিবেচনায় বলা যায়- ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পথ এখনও ঘুরপথে ভরা ও অনিশ্চিত এবং 'চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া' সম্পর্কে যেকোনো সরল দাবি বাস্তবতার প্রতিফলনের চেয়ে প্রচারমূলক খেলাই বেশি।

ইউক্রেনে শান্তি তখনই সম্ভব হবে, যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সরে আসবে; কিন্তু এখনো তেমন কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই সংকটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে এবং কোনো সরল দাবি এই ভবিষ্যতের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরতে পারে না। তাই বলা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা মূলত একটি লোকদেখানো উদ্যোগ, যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে 'শান্তির দূত' হিসেবে তুলে ধরতে চান—যেমনটি তিনি আগেও দাবি করেছিলেন যে, তিনি বিশ্বে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন