ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ প্রচারসর্বস্ব ও ভঙ্গুর: ফরেন পলিসি
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে: মার্কিন পত্রিকা ফরেন পলিসি লিখেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি নিয়ে অনেক কথা বলেন এবং সবাই স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে যে, তার উদ্দেশ্য মূলত নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তিনি প্রায় সব অনুষ্ঠানে দাবি করেন যে, তিনি কমপক্ষে আটটি যুদ্ধ শেষ করেছেন; তবে এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
ফরেন পলিসি একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে উল্লেখ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষত্ব হলো 'পটেমকিন' নামে পরিচিত শান্তি পরিকল্পনাগুলোতে; এগুলো প্রতীকী চুক্তি যা অনেক হৈচৈ করে ঘোষণা করা হলেও তা খুব শিগগিরই ভেস্তে যায়।
পার্সটুডে জানিয়েছে, গাজা সম্পর্কিত ২০-দফা পরিকল্পনা, যা ট্রাম্প 'শুধুমাত্র একটি যুদ্ধের শেষ নয়, বরং হত্যার ও সন্ত্রাসের যুগের সমাপ্তি' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, তা গাজা অঞ্চলের সংঘাত শেষ করতে পারেনি। বরং এটি পশ্চিম তীরের নীরব দখলকে সহজ করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের বর্বর আচরণকে সাহায্য করেছে। অক্টোবর মাসের শান্তিচুক্তির পর থেকে প্রায় ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা এখনও অপর্যাপ্ত।
প্রবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারে যে এই অস্পষ্ট পরিকল্পনা ভবিষ্যতের একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ দেখাবে? বাস্তবে এটি শান্তির দিকে কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং এটি ছিল 'বৃহত্তর ইসরায়েল' তৈরি এবং ফিলিস্তিনিদের একটি পরিচিতিপূর্ণ জাতি হিসেবে বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার মুখোশ।
ইউক্রেনের প্রসঙ্গেও ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে দাবি করেছিলেন যে, তিনি যুদ্ধ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করবেন। সেই সময়েও এই দাবি ফাঁপা মনে হচ্ছিল। এখন ট্রাম্প প্রশাসন শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর পর, যুদ্ধবিরতির জন্য উভয় পক্ষকে রাজি করানোর তার প্রচেষ্টা এখনও সফল হয়নি।
একইভাবে, ট্রাম্পের কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সীমান্ত যুদ্ধ শেষ করার দাবিও ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি উভয় দেশ যুদ্ধ পুনরায় শুরু করেছে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সুদান ও কঙ্গোতেও মার্কিন প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত বন্ধের দাবিও অস্বীকার করেছেন। এই সব ক্ষেত্রে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা অতিরঞ্জন ছাড়া কিছু নয়।
ফরেন পলিসি আরও উল্লেখ করেছে, এই ব্যর্থ প্রচেষ্টা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যুদ্ধের আগুনকে আরও প্রবল করে। ট্রাম্প ইরানে হামলার সময় ইসরায়েলকে সহযোগিতা করেছেন; আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন সরকার, তার অধীনে নিষ্প্রয়োজনীয় হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, যা মার্কিন ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার হুমকিও দিয়েছেন। এটি এমন একটি রেকর্ড নয় যা 'শান্তিকামী' উপাধির যোগ্য।
পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ট্রাম্প অধীর ও বিস্তারিত বিষয়ে উদাসীন। তার সীমিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে প্রতিপক্ষরা জানে, তিনি চলে গেলে তারা তাদের নীতিতে ফিরে যেতে পারে। ট্রাম্প পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে শৌখিন কূটনীতিকদের (যেমন স্টিভ উইটকফ বা জার্ড কুশনার) সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন। এছাড়া ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধি পক্ষপাতমূলকভাবে কাজ করেছেন, যার কারণে কিছু পক্ষ তাদের বিশ্বাস করেন না। ফলে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা একপক্ষীয় সমাধান চেষ্টায় ব্যর্থ হন বা চুক্তি স্বাক্ষরের কিছু সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৫