ভেনেজুয়েলায় হামলা: আমেরিকার আগ্রাসী নীতির সর্বশেষ শিকার কারাকাস
https://parstoday.ir/bn/news/world-i155734-ভেনেজুয়েলায়_হামলা_আমেরিকার_আগ্রাসী_নীতির_সর্বশেষ_শিকার_কারাকাস
পার্সটুডে- ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সামরিক হামলার মাধ্যেমে এর জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এটি ওয়াশিংটনের পুরোনো কৌশলেরই অংশ।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জানুয়ারি ০৩, ২০২৬ ১৫:৪১ Asia/Dhaka
  • ভেনেজুয়েলায় হামলা: আমেরিকার আগ্রাসী নীতির সর্বশেষ শিকার কারাকাস

পার্সটুডে- ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সামরিক হামলার মাধ্যেমে এর জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এটি ওয়াশিংটনের পুরোনো কৌশলেরই অংশ।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নিজের দেশের তেলকূপের দরজা খোলা আছে বলে ঘোষণা দেওয়ার এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই কারাকাসে বোমা হামলা চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বের বহু সংবাদ সংস্থা মাদুরোর একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত। কিন্তু মাদুরোর এই নমনীয়তা যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনেনি; বরং তার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে বোমা হামলা চালায়।

মনে হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে কোনো পরিবর্তন নেই। যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, তাকেই বোমাবর্ষণের শিকার হতে হয়। গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র বহুবার বিভন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরুর পর, এমনকি আলোচনার মাঝেও “সামরিক হামলা বা বোমাবর্ষণ চালিয়েছে।

লিবিয়া, ২০১১: লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো সরকারি ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যা শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফি সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যায়।

ইরাক, ২০০৩: সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসন ও অস্ত্র পরিদর্শন নিয়ে জাতিসংঘের কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা শুরু করে এবং ইরাক যুদ্ধের সূচনা করে।

আফগানিস্তান, ২০০১: ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য কিছু গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে গোপন আলোচনা চালাচ্ছিল, কিন্তু আলোচনা চলাকালেই তালেবান ও আল-কায়েদার ঘাঁটির ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়।

সিরিয়া, ২০১৮: উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায়, এমনকি তখন জাতিসংঘ ও অন্যান্য পক্ষ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল।

ইরান, ২০২৫: ২০২৫ সালের ২১ ও ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা পারমাণবিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল এবং উভয় পক্ষ ষষ্ঠ দফা আলোচনার শুরুর দ্বারপ্রান্তে ছিল।

এখন ২০২৬ সালের প্রথম দিনগুলোতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসকে আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে!

এসব অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ফল হয় না বরং তা ক্ষতি ডেকে আনে। ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, আলোচনা শব্দটি কার্যত হামলার প্রস্তুতির সমার্থক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের জন্য ঐতিহাসিক শিক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে যাওয়া মানে নিঃশর্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নেওয়া, নতিস্বীকার করা। কাজেই আমেরিকার দাদাগিরির মোকাবেলায় বিশ্ববাসীর সামনে মাত্র দু’টি পথই খোলা রয়েছে-
পূর্ণ আত্মসমর্পণ অথবা পূর্ণ প্রতিরোধ।#

পার্সটুডে/এসএ/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন