মাচাদোর পরিণতি বিশ্বাসঘাতকদের জন্য সতর্কবার্তা; বিদেশি দাসদের ভাগ্যে জোটে কেবল অপমান
-
মাচাদো
পার্সটুডে- যারা ভেবেছিলেন মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার মারিয়া মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে দেশটির ক্ষমতায় বসাবেন, তারা আশাভঙ্গ হতে শুরু করেছে। এরিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মাচাদো সম্পর্কে বলেছেন, নিজ দেশে মাচাদো'র কোনো সম্মান নেই।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি খুব দ্রুত পাল্টাচ্ছে। যদিও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স অপহরণ করে নিয়ে গেছে, তবুও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য কর্মকর্তা এখনও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। পার্সটুডে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা মারিয়া মাচাদোর হাতে তুলে দেবেন, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তত এই ক্ষেত্রে মাচাদোকে তিনি যোগ্য মনে করেন না।
মাচাদো নিজেকে আমেরিকার সহযোগী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পথ চলেছেন। তিনি 'রাজনৈতিক নোবেল পুরস্কার' গ্রহণ করার পর বলেছিলেন, ট্রাম্প এই পুরস্কারের জন্য তার চেয়েও বেশি যোগ্য। তিনি একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশে সামরিক হামলার আহ্বান জানান এবং তিনি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধ জোরদার ও আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু এখন তার হাতই সবচেয়ে বেশি শূন্য।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি মারিয়া মাচাদোকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করেছেন? তিনি জবাব দেন: “না! তিনি ভালো নারী, কিন্তু নিজের দেশে তার যথেষ্ট সম্মান ও সমর্থন নেই।” এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী এটিকে মাচাদোর দেশদ্রোহিতার পরিণতি বলে মন্তব্য করে বলেছেন, এটাই সব বিশ্বাসঘাতকের ভবিষ্যৎ, এটাই পরিণতি।
শেষ পর্যন্ত মাচাদোর ঘটনা আবারও রাজনীতির সেই পুরোনো সত্যকে স্পষ্ট করেছে— বিদেশি শক্তি কখনোই ত্রাণকর্তা নয়; তারা ততক্ষণই পাশে থাকে, যতক্ষণ তাদের স্বার্থ পূরণ হয়। যে বিরোধী শক্তি ওয়াশিংটনের সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে ব্যয় করে, সেই শক্তিও সংকটময় মুহূর্তে ছিটকে পড়ে।
মারিয়া মাচাদোর এমন পরিণতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং জনগণকে উপেক্ষা করে বিদেশিদের কাছে সমর্পণের পরিণতি।
যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে যে, তারা আধুনিক উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ভেনেজুয়েলার স্বার্থ বা জনগণের কথা নয়, বরং নিজের স্বার্থ ও তেলের দিকেই তাদের নজর। এই পথে বিভ্রান্তিকর স্লোগান ব্যবহার করা তাদের কৌশলের অংশ, আর ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থের বিন্দুমাত্র মূল্য নেই তাদের কাছে।
ওয়াশিংটনের কাছে “জাতিগুলোকে উদ্ধার” কেবল একটি প্রচারণামূলক স্লোগান; বাস্তবে তাদের লক্ষ্য রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ, সম্পদ লুট এবং নতুন ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা।
মাচাদোর পরিণতি তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যারা নিজেদের জনগণের পিঠে ছুরি বসিয়ে বিদেশি শক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। এই খেলায় নেই কোনো মুকুট, নেই কোনো পুরস্কার, কেবলি অসম্মান ও অপমান।#
পার্সটুডে/এসএ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন