গ্রিনল্যান্ড ও শুল্ক; যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় ইউরোপের কৌশল পুনর্বিন্যাসের আহ্বান ম্যাক্রনের
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156896-গ্রিনল্যান্ড_ও_শুল্ক_যুক্তরাষ্ট্রের_মোকাবিলায়_ইউরোপের_কৌশল_পুনর্বিন্যাসের_আহ্বান_ম্যাক্রনের
পার্সটুডে- ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে  'গ্রিনল্যান্ড মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাময়িক উত্তেজনা হ্রাসকে কোনো স্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চাপ, প্রতিযোগিতা এমনকি কৌশলগত সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
(last modified 2026-02-11T03:50:15+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ২০:১৪ Asia/Dhaka
  • ম্যাক্রন
    ম্যাক্রন

পার্সটুডে- ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে  'গ্রিনল্যান্ড মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাময়িক উত্তেজনা হ্রাসকে কোনো স্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চাপ, প্রতিযোগিতা এমনকি কৌশলগত সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

মঙ্গলবার ইমানুয়েল ম্যাক্রন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে ওই সরকারকে “স্পষ্টতই ইউরোপবিরোধী” বলে অভিহিত করে বলেন, ওয়াশিংটন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দুর্বল করা এমনকি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

একাধিক প্রভাবশালী ইউরোপীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন- তিনি যাকে “গ্রিনল্যান্ড মুহূর্ত” বলেছেন, সেটিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ম্যাক্রনকে বলেন- ছাড় দেওয়ার কৌশল বা একতরফা সমঝোতার চেষ্টা কোনো ফল দেয়নি এবং ইউরোপকে দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করে বলেন- ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা আইন কার্যকর করে প্রযুক্তি জায়ান্টদের নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। ম্যাক্রন এই পরিস্থিতিকে আগামী মাসগুলোতে ইউরোপের ওপর আসন্ন চাপের অংশ বলে উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আবারও যৌথ ইউরোপীয় ঋণ গ্রহণের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান, যার মধ্যে ইউরো বন্ড ইস্যুও রয়েছে। তার মতে, এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াবে এবং মার্কিন ডলারের আধিপত্যের ওপর কাঠামোগত নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এসব বক্তব্য ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের বৈঠকের প্রাক্কালে এসেছে; যে বৈঠকে ইউরোপের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। একই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডে ফ্রান্স ও কানাডার নতুন কনস্যুলেট উদ্বোধনের প্রতীকী পদক্ষেপকেও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও ওয়াশিংটনের আচরণ নিয়ে বাড়তে থাকা সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/এসএ/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।