ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের ইতিহাস কি পুনরাবৃত্তি হবে?
-
• মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে- নতুন বছরের প্রথম শনিবার লক্ষ লক্ষ আমেরিকান ঘুম থেকে জেগে উঠে একটি প্রশ্ন নিয়ে: আমরা কি ভেনেজুয়েলার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত?
মিডল ইস্ট আই একটি প্রবন্ধে লিখেছে: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার মার্কিন পদক্ষেপ প্রকৃতপক্ষে, ভেনেজুয়েলার জন্য, আমেরিকার বৈশ্বিক অবস্থানের জন্য, এমনকি প্রেসিডেন্ট পদের সাথে সম্পর্কিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের জন্যও সুদূরপ্রসারী পরিণতি ডেকে আনবে। পার্সটুডে জানিয়েছে, একজন বিদেশী প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা খুবই জঘন্য কাজ, কারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই ধরনের কাজকে যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ট্রাম্প অপহরণের এই পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিয়েছে এই দাবি করে যে মাদুরো মাদক পাচারের সাথে জড়িত এবং আমেরিকার জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, কিন্তু ট্রাম্পের পরবর্তী বক্তব্যগুলি থেকে বোঝা যায় যে তিনি ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ঘটনাটি ল্যাটিন আমেরিকায় আমেরিকার আগের হস্তক্ষেপের যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ওই অঞ্চলের অবাঞ্ছিত নেতাদের উৎখাত করা হয়েছিল এবং পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মাদুরোর নিউইয়র্কে স্থানান্তরের একই সময়ে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন ছিল বিজয়োল্লাসে পরিপূর্ণ এবং ২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ যখন ইরাকে বিজয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকি মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী এই পদক্ষেপটিকে লিঙ্কন এবং রুজভেল্টের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলির চেয়েও ঊর্ধ্বে বলে মনে করেছিলেন।
কিন্তু দেশে, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ কারণ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা কার্যত একটি যুদ্ধ এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিছু সিনেটর জোর দিয়ে বলেছেন যে ট্রাম্প অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধে প্রবেশ করেছেন এবং তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তবে, রিপাবলিকান নেতারা তাকে সমর্থন করেছেন।
জরিপ দেখায় যে বেশিরভাগ আমেরিকান ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে, এমনকি কিছু ট্রাম্প সমর্থকও এ পদক্ষেপকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন কারণ তারা ভেবেছিলেন যে তিনি অন্তহীন যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন।
ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে পরিকল্পনা ছাড়া একজন নেতার দ্রুত পতন একটি দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভেনেজুয়েলাও একই ঝুঁকিতে রয়েছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সরলভাবে কথা বলেছেন, এমনকি ঘোষণা করেছেন যে "নিরাপদ পরিবর্তন" না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তিনি খোলাখুলিভাবে বলেছেন যে তেল কোম্পানিগুলি এসে ভেনেজুয়েলার তেল ফিরিয়ে নেবে। বিশ্বব্যাপী, এই পদক্ষেপটি দেখিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন