ইসরায়েলি কারাগারে ২০০ দিনেরও বেশি আটক তাসনিম নিউজ এজেন্সির নারী সাংবাদিক
https://parstoday.ir/bn/news/world-i157310-ইসরায়েলি_কারাগারে_২০০_দিনেরও_বেশি_আটক_তাসনিম_নিউজ_এজেন্সির_নারী_সাংবাদিক
পার্সটুডে-পশ্চিম তীরে তাসনিম নিউজ এজেন্সির একজন প্রতিবেদক ফারাহ আবু আয়াশকে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তারের পর দুইশ দিন পেরিয়ে গেছে। তার আইনজীবীর মতে, নির্যাতন, নির্জন কারাবাস এবং পরিবারের সাথে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
(last modified 2026-02-24T09:46:32+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১৫:৩০ Asia/Dhaka
  • তাসনিম নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক ফারাহ আবু আয়াশ যিনি ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হাতে বন্দী।
    তাসনিম নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক ফারাহ আবু আয়াশ যিনি ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হাতে বন্দী।

পার্সটুডে-পশ্চিম তীরে তাসনিম নিউজ এজেন্সির একজন প্রতিবেদক ফারাহ আবু আয়াশকে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তারের পর দুইশ দিন পেরিয়ে গেছে। তার আইনজীবীর মতে, নির্যাতন, নির্জন কারাবাস এবং পরিবারের সাথে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

পার্সটুডে অনুসারে, তাসনিম নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে এই সংবাদ মাধ্যমের একজন ফিলিস্তিনি প্রতিবেদক ফারাহ আবু আয়াশকে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট পশ্চিম তীরে অবস্থিত হেবরনের উত্তরে বেইত আমের গ্রামে তার বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক রাতের অভিযানের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অধিকৃত জেরুজালেমের উত্তরে আল-মাকসুবিয়্যাহ আটক কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল ওয়াকিবহাল সূত্রের মতে, তাকে অবমাননাকর আচরণ এবং নির্যাতনের শিকার করা হয়েছিল।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক ফারাহ আবু আইয়াশ যিনি ইহুদি শাসকগোষ্ঠীর হাতে বন্দী।

আটক কেন্দ্র এবং কারাগারে শোচনীয় অবস্থা

আবু আয়াশের মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ফিলিস্তিনি আইনজীবী হাসান এবাদি যিনি কারাগারে তার সাথে দেখা করতে পেরেছিলেন তিনি তার মক্কেলের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,  "ফারাহ তার আটকের ৫৩ দিন আল-মাস্কুবিয়া আটক কেন্দ্রে নির্জন কারাগারে কাটিয়েছেন এবং তারপর তাকে শ্যারন কারাগারে এবং তারপর দামন কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়।" সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের কথা উল্লেখ করে এবাদি আরো বলেন, " আটকের সময় তাকে ক্রমাগত অপমান এবং মারধর করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অপমানজনক পরিস্থিতিতে এবং তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে অশ্লীল আচরণসহ বেশ কয়েকটি দেহ তল্লাশি চালানো হয়েছে।" ফারাহ আবু আয়াশের আইনজীবী জোর দিয়ে বলেন যে তার মক্কেলের পরিস্থিতি অন্যান্য ফিলিস্তিনি মহিলা বন্দীদের থেকে আলাদা নয় এবং ইসরায়েলি সরকারের কারাগারের অবস্থা খুবই কঠোর।

তার মতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে আল আকসা তুফান অভিযানের পর থেকে মহিলা বন্দীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দীদের শোচনীয় অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে এবাদি বলেন, "অনেক ক্ষেত্রে ১০ জন মহিলা বন্দীকে একটি ছোট কক্ষে রাখা হয় যাদের মধ্যে মাত্র চারজন একসাথে মেঝেতে ঘুমাতে পারে। কক্ষগুলো খুব ঠান্ডা এবং কারমেলের মতো কারাগারে পরিস্থিতি আরো খারাপ।"

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাক্ষাতের অস্বীকৃতি এবং নীরবতা

ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হল বহির্বিশ্ব থেকে তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা। এই বিষয়টির উপর জোর দিয়ে এবাদি বলেন, "এই বন্দীরা বহির্বিশ্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞ। তাদের পরিবারের সাথে কোনো দেখা করার সুযোগ দেয়া হয় না,এমনকি তাদের পিতামাতার সাথে ফোনে কথা বলার কোনো সুযোগ দেয়া হয় না। রেড ক্রসকেও তাদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না এবং কোনও পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতি তাদের বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।" এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে যখন ইসরায়েলি সরকার "জরুরি অবস্থা" উল্লেখ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতিনিধিদের ফিলিস্তিনি বন্দীদের সাথে দেখা করতে নিষিদ্ধ করেছে।

পশ্চিম তীরে তাসনিমের একজন প্রতিবেদক ফারাহ আবু আয়াশের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদন। 

প্রতিবাদ অভিযান

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি বন্দীদের পরিবার এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ এবং আল-বিরেহ শহরে রেড ক্রসের সদর দপ্তরের সামনে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিষয়ক ফলো-আপের সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান আমিন শোমান বলেছেন, "আমরা দখলদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে তারা তাদের পরিবারগুলোকে তাদের বন্দীদের সাথে দেখা পুনরায় শুরু করতে বাধ্য করুক," "গত ২৮ মাস ধরে বন্দীদের রেড ক্রসের ডাক্তার সহ মানবাধিকার সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।"

ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিষয়ক ফলো-আপের সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান আমিন শোমান

বন্দীদের বিষয়ে সক্রিয় সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুসারে,বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে ৯,৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন যার মধ্যে ৬৬ জন মহিলা রয়েছেন। ফারাহ আবু আইয়াশের গ্রেপ্তারের পর ২০০ দিনেও তার মামলায় কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি এবং তাকে এখনও কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রাখা হয়েছে এবং সঠিক চিকিৎসা সেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে তাকে  বঞ্চিত করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমবিএ/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ