ইরানকে এক রাতে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকির আড়ালে ট্রাম্পের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এক রাতেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তাঁর আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবারই সেই রাত হতে পারে। অন্যদিকে তিনি নিজেই স্বীকার করছেন, ইরানের ভূপ্রকৃতি ও অবস্থান সম্পর্কে তারা আগে ধারণাই করেননি এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে আটকা পড়েছে।
হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধার অভিযান ‘ঐতিহাসিক’। তবে তিনি স্বীকার করেন, “আমরা জানতাম না ওই অঞ্চলের মাটি বালুময়। জানতাম না ওই এলাকা কোথায়—এটি ইরানের সবচেয়ে কঠিন স্থানগুলোর একটি এবং আমরা সেখানে আটকে পড়ব!”
তিনি বলেন, “আমি ইরানিদের কাজ দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছি—তারা আমাদের জন্য ওঁৎ পেতে ছিল এবং তারা বারবার মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত করেছে।
উদ্ধার অভিযানে ২১টি মার্কিন বিমান অংশ নিয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, একটি ‘লাকি শটে’ (ভাগ্যক্রমে গুলি লেগেছে) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে স্বীকার করেন, “এই মুহূর্তে হয়তো আমাদের বেশ কিছু হেলিকপ্টারে তাদের গুলির দাগ আছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ৩৭ দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশে ১০ হাজারের বেশি যুদ্ধ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে। এরপরও তিনি দাবি করছেন, যুদ্ধ ‘বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে’।
ইরানকে দেওয়া আলটিমেটাম সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন, আত্মসমর্পণ না করলে “তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—কিছুই থাকবে না।” তবে ঠিক পরের বাক্যেই তিনি বলেছেন, “আমি এর বেশি এগোব না। কারণ এর চেয়েও বড় আরো কিছু বিষয় আছে।”
ইরানের তেল দখলের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমার হাতে সুযোগ থাকলে আমি সেখান থেকে তেল নিয়ে আসতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমেরিকার জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। যদি আমার ওপর নির্ভর করত, আমি তাদের সব তেল নিয়ে নিতাম, সেটি নিজের কাছে রাখতাম। অনেক অর্থ উপার্জন করতাম এবং একই সঙ্গে ইরানের জনগণের দেখভালও করতাম”।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া হুমকিতে তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি আসলে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছিলেন।#
পার্সটুডে/এমএআর/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।