নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইরানের প্রতিবাদী চিঠি প্রেরন
দুটি ইরানি উদ্ধার-নৌযানে ইচ্ছাকৃত মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধ: ইরান
-
জাতিসংঘে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দরযি (ডানে)
পার্সটুডে: জাতিসংঘে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দরযি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, ‘নাজি-১৫’ ও ‘নাজি-১৬’ নামে দুটি ইরানি জাহাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।
পার্স টুডে, ইরনার বরাতে জানিয়েছে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দরযি শুক্রবার (স্থানীয় সময়) জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দুটি সমুদ্র অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নাজি-১৫’ এবং ‘নাজি-১৬’-এ হামলা চালায়। হামলার সময় জাহাজ দুটি ইরানের হরমোজগান প্রদেশের আঞ্চলিক জলসীমায় তাদের দায়িত্ব পালন করছিল।
জাতিসংঘে ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আরও বলেন, যেসব জাহাজ শুধুমাত্র সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের জন্য নিয়োজিত, সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এসব জাহাজ সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করে এবং তাদের একমাত্র কাজ হলো সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করা।
দরযি জোর দিয়ে বলেন, ‘নাজি-১৫’ ও ‘নাজি-১৬’ আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষ সুরক্ষার আওতাভুক্ত। হামলার সময় তারা কোনো ধরনের সামরিক কার্যক্রমে বা সশস্ত্র সংঘাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছিল না। ফলে তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর ও স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।
জাতিসংঘে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত মানবিক সরঞ্জাম ও জাহাজকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্র শুধু উদ্ধারকর্মীদের জীবনকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেনি, একইসঙ্গে জাতীয়তা নির্বিশেষে সমুদ্রে সাহায্যপ্রার্থী সব নাবিকের নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করেছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।