ইরানকে ঘিরে সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে রাশিয়া প্রস্তুত: ল্যাভরভ
-
সের্গেই ল্যাভরভ ও সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
ইরানকে ঘিরে সংকট নিরসনে যেকোনো ভূমিকা রাখার জন্য মস্কোর প্রস্তুতির কথা আবারো পুনরাবৃত্তি করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
রাশিয়ার তাস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি এবং তার রুশ প্রতিপক্ষ সের্গেই ল্যাভরভ মঙ্গলবার আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে টেলিফোনালাপ করেছেন।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ল্যাভরভ সশস্ত্র সংঘাতের পুনরায় শুরু হওয়া প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং এই সংকট সমাধানে অবদান রাখতে রাশিয়ার অব্যাহত প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন- যার কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি পারস্য উপসাগরের জন্য একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির রুশ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছেন, যেখানে এই অঞ্চলের সকল দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম এমন অ-আঞ্চলিক দেশগুলোও এটিকে সমর্থন করবে।”
আরাকচি গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-মার্কিন আলোচনার বিস্তারিত তথ্য ল্যাভরভকে অবহিত করেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “রাশিয়া ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছে যার মাধ্যমে সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করা এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যেখানে ইরান ও তার প্রতিবেশীদের বৈধ স্বার্থ বিবেচনায় রাখা হবে।”
২৮ ফেব্রুয়ারি, ইসলামি বিপ্লবের সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অপরাধী শাসকগোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিন ধরে ধারাবাহিক পাল্টা আক্রমণ চালায়, যার লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলো এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশার বিপরীতে, ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করে এবং এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টায়, ৮ই এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ সম্মত হয় যার ফলে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই আলোচনা চলাকালে ইরান একটি দশ-দফা পরিকল্পনা পেশ করে, যেখানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
পাকিস্তানে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে তীব্র আলোচনা চালানোর পরেও, ইরানি প্রতিনিধিদল আস্থার অভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির কথা উল্লেখ করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরেই তেহরানে ফিরে আসে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/এমএআর/১৩