‘সোমালিল্যান্ড’-এ ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের নিন্দা জানালো ১০টি মুসলিম দেশ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i158594-সোমালিল্যান্ড’_এ_ইসরায়েলের_রাষ্ট্রদূত_নিয়োগের_নিন্দা_জানালো_১০টি_মুসলিম_দেশ
পার্সটুডে- ১০টি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতি জারি করে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ‘সোমালিল্যান্ড’-এ ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
(last modified 2026-04-19T06:38:18+00:00 )
এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ০৯:৫৩ Asia/Dhaka
  • সোমালিল্যান্ড
    সোমালিল্যান্ড

পার্সটুডে- ১০টি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতি জারি করে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ‘সোমালিল্যান্ড’-এ ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

পার্সটুডে জানিয়েছে, মিশরীয় ওয়েবসাইট ‘সাদি আল-বালাদ’-কে উদ্ধৃত করে ইরনা জানিয়েছে, মিশর, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, তুরস্ক, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ‘সোমালিল্যান্ড’ নামে পরিচিত অঞ্চলে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ইসরায়েলের এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতি, জাতিসংঘের সনদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

১০টি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরো বলেছেন, এই ধরনের উস্কানিমূলক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিশেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং এই সংবেদনশীল অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ প্রতিরোধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

এই সম্মিলিত বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন আঞ্চলিক দেশগুলো আফ্রিকান মহাদেশে ইসরায়েলের বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুসলিম দেশগুলোর জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।

সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সাল থেকে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত সোমালিল্যান্ডকে জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রই স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছর ‌ইসরায়েল এ অঞ্চলটিকে স্বীকৃতি দেয় এবং তেল আবিবের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমালি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে, কারণ সরকার এখনও অঞ্চলটিকে তার দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ‘সোমালিল্যান্ড’কে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার পরপরই, অধিকাংশ আরব ও মুসলিম দেশ পৃথক ও যৌথ বিবৃতি জারি করে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানায় এবং সোমালিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

আরব লীগের মহাসচিব আহমদ আবুল ঘেইতও বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ‘সোমালিল্যান্ড’কে স্বীকৃতি দেওয়ার ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা করেন।

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাও ইসরায়েলি একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নৈকট্য এবং এডেন উপসাগরের উপর আধিপত্যের কারণে সোমালিল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি হর্ন অফ আফ্রিকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ইসরায়েল সবসময় বিভিন্ন উপায়ে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি ঘাঁটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে আসছে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন