'অসম্ভব যুদ্ধ’ অথবা ‘খারাপ চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159108-'অসম্ভব_যুদ্ধ’_অথবা_খারাপ_চুক্তি’_যুক্তরাষ্ট্রকে_যেকোনো_একটি_বেছে_নিতে_হবে
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের বিরুদ্ধে একটি “অসম্ভব সামরিক অভিযান” অথবা একটি “খারাপ চুক্তি”—এই দুইটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।
(last modified 2026-05-03T13:04:29+00:00 )
মে ০৩, ২০২৬ ১৯:০৪ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের বিরুদ্ধে একটি “অসম্ভব সামরিক অভিযান” অথবা একটি “খারাপ চুক্তি”—এই দুইটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই মন্তব্য করে। এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তেহরান কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্তের ভার আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।

আইআরজিসির বার্তায় বলা হয়, "ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। অন্যদিকে চীন, রাশিয়া আর ইউরোপও আমেরিকার বিরুদ্ধে তাদের কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে, যাকে ইরান দুর্বলতার পরিচায়ক বলছে। একইসঙ্গে আমেরিকা ইরানের কথা মতো আলোচনায় বসার শর্ত মেনে নিয়েছে। এসব বিবেচনায় একটাই বিষয় স্পষ্ট: ট্রাম্পকে ‘অসম্ভব সামরিক অভিযান’ অথবা ‘ইরানের সঙ্গে খারাপ চুক্তি’—এই দুইয়ের একটি বেছে নিতে হবে।”

বার্তায় আরও বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিসর এখন অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা করে। এসব হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ওপর ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এতে ব্যালিস্টিক ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের জ্বালানি পরিবহন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

সংঘাত শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ালেও ইরানের বিরুদ্ধে একটি নৌ অবরোধ আরোপ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে ইরান এখনো দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শর্ত এবং ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ—এই দুই বিষয় আলোচনায় অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কৌশলগত অবস্থান এবং কঠোর অবস্থান গ্রহণের কারণে সংঘাতের দ্রুত সমাধান এখনও অনিশ্চিত।

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব এবং আইআরজিসির কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে কূটনৈতিক সমাধান অথবা আরও গভীর সংঘাত—দুই সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৩