একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বিশ্বের জন্য গভীর সংকটের লক্ষণ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159402-একতরফা_নিষেধাজ্ঞা_এবং_দেশগুলোর_সার্বভৌমত্বের_লঙ্ঘন_বিশ্বের_জন্য_গভীর_সংকটের_লক্ষণ
পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: আজ নিষেধাজ্ঞাগুলো কূটনৈতিক হাতিয়ার থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং উন্নয়নশীল ও স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
(last modified 2026-05-15T10:09:19+00:00 )
মে ১৫, ২০২৬ ১৫:৪৫ Asia/Dhaka
  • ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি
    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি

পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: আজ নিষেধাজ্ঞাগুলো কূটনৈতিক হাতিয়ার থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং উন্নয়নশীল ও স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডের জানিয়েছে,ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি গত বৃহস্পতিবার,১৫ই মে, ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় বৈঠকে বলেছেন: বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এখন নিরাপত্তা পরিষদ অদক্ষতা ও ভারসাম্যহীনতার একটি স্পষ্ট প্রতীক এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের চাপিয়ে দেওয়া ও আগ্রাসী যুদ্ধের মুখে এর নীরবতা এই পরিষদের অদক্ষতার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন,  আজ নিষেধাজ্ঞাগুলো কূটনৈতিক হাতিয়ার থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং উন্নয়নশীল ও স্বাধীন দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। আইনের যান্ত্রিক ব্যবহার, একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশগুলোর অধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞা বিশ্ব শাসনে এক গভীর সংকটের লক্ষণ। এবং নিছক শক্তির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল শান্তির নিশ্চয়তা দেয় না, বরং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনার মূল কারণও বটে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বলপ্রয়োগ না করার নীতি, যা জাতিসংঘের সনদের একটি উজ্জ্বল ও কেন্দ্রীয় নীতি এবং বিশ্বযুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার পথে এক মানবিক অর্জন, তা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এক গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এই দেশটির অবৈধ ও একতরফা যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে, যা পূর্বে ন্যায়বিচার ও বহুপাক্ষিকতাকে ধারণ করত এবং এখন তা বর্বরতা ও পাশবিকতার সাথে মিশে গেছে।

আরাকচি আরও বলেন,  এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ এবং বিশ্ব শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার জন্য বৈশ্বিক দক্ষিণের বহুপাক্ষিকতার আদর্শ যার উপর ব্রিকস প্রতিষ্ঠিত ও সুগঠিত আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকস সদস্যরা এই সনদের নীতিসমূহ বাস্তবায়ন ও রক্ষা করতে নিজেদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে করে।

আরাকচি জোর দিয়ে বলেন,  বিশ্বের জনসংখ্যা ও অর্থনীতির একটি বৃহৎ অংশের প্রতিনিধিত্বকারী ব্রিকস গোষ্ঠীর প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার মেরুদণ্ড হয়ে ওঠার এক অতুলনীয় সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক, আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা একচেটিয়া কাঠামোর উপর নির্ভরতা কমাতে পারে এবং স্বাধীনতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। ব্রিকস পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন সুবিধার উপর ভিত্তি করে সহযোগিতার একটি মডেল হতে পারে। এখন সময় এসেছে “সংকট ব্যবস্থাপনা” থেকে “কাঠামো ব্যবস্থাপনার” দিকে এগিয়ে যাওয়ার।#

 

পার্সটুডে/এমবিএম/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।