ট্রাম্পের হুমকিতে ক্ষুব্ধ ওমানের সাংবাদিক, অধ্যাপকসহ গোটা বুদ্ধিজীবী মহল
-
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিতে ক্ষুব্ধ ওমানের লেখক, গবেষক ও চিন্তাশীল মহল
পার্সটুডে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার সন্ধ্যায় বলেছেন, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। তিনি আরও বলেন, এটি ইরানের সঙ্গে আলোচনারই একটি অংশ।
তিনি এ ব্যাপারে ওমানকে "হস্তক্ষেপের" বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন: "ওমান অন্য যেকোনো দেশের মতোই আচরণ করবে, নইলে ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হবে।"
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ওমানের অভিজাত শ্রেণী ও চিন্তাবিদরা জোর দিয়ে বলেছেন, ওমান সালতানাত "ব্ল্যাকমেইলের" কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধমক ও বেপরোয়া আচরণের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে, ওমানের সংবাদপত্র আল-রুয়াইয়া-এর সম্পাদক, লেখক ও বিশ্লেষক হাতেম আল-তাই ট্রাম্পের বক্তব্যকে তার "গভীর ও জটিল সংকটে পড়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
আল-তাই বলেছেন, ট্রাম্প “যুদ্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সক্ষম নন,” এবং তিনি আরও বলেন বেশিরভাগ আরব দেশ “অবাধ ও জোরপূর্বক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আহ্বানে সাড়া দেয়নি।”
অন্যদিকে, ওমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী বিন মাসুদ আল-মাশানি মনে করেন, আমেরিকার নির্বুদ্ধিতা এবং উস্কানিমূলক নীতিই ইরানকে একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে। তিনি আরও বলেন, এগুলো একাধিক আরব সমাজে প্রতিরোধ গোষ্ঠীর উত্থানেও অবদান রেখেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফ আল-মিমারি ট্রাম্পের ওমানের প্রতি অপমানজনক মন্তব্যকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ওমানের ভূমিকাকে খাটো করার এবং তার অবস্থানকে গুরুত্বত্বহীন করে দেখানোর প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, “ইসরায়েলি প্রকল্পের সাথে যুক্ত কিছু গণমাধ্যম” ওমানের অবস্থানকে “অস্পষ্ট বা দ্বিধাগ্রস্ত” হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে, গবেষক নাসর আল-বুসাইদি ট্রাম্পকে “পাগল ও সন্ত্রাসী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, যুদ্ধের আগেই ওমান “তার আসল রূপ প্রকাশ করেছে” এবং তাকে “ইসরায়েলি প্রকল্পের একজন প্রজা” হিসেবে বর্ণনা দিয়েছেন।
এদিকে, রাজনৈতিক গবেষক মোহাম্মদ সাঈদ আল-ফুতিসি, সাবেক সুলতান কাবুস বিন সাইদের বক্তব্য স্মরণ করে জোর দিয়ে বলেছেন, ওমান সালতানাত একটি আঞ্চলিক শক্তি যা আপস বা আত্মসমর্পণের ভাষায় সাড়া দেয় না। কাবুস বিন সাইদ বলেছেন, ওমান “সহাবস্থান ও শান্তিতে বিশ্বাসী, কিন্তু আত্মরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লা আল-আব্রি বলেছেন, ওমান হুমকির ভাষায় শাসিত হয় না এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের কাছে আত্মসমর্পণ করে না। তিনি আরও যোগ করেন: “যারা ওমানের নীরবতার উপর বাজি ধরে, সে এই জাতির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সার্বভৌমত্বের অর্থ বোঝে না।”
পারস্য উপসাগরীয় বিষয়াবলী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ বাবুদ নিশ্চিত করেছেন যে, ওমান “নিরপেক্ষতা, সংলাপ এবং কূটনীতির উপর ভিত্তি করে তার শান্তিপূর্ণ পন্থা অব্যাহত রাখবে এবং ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নির্দেশনার কাছে নতি স্বীকার করবে না।”
তিনি আরও বলেন, সালতানাত “অপ্রয়োজনীয় ইব্রাহিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না এবং আরব শান্তি উদ্যোগ ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করে যাবে।”
বাবুদ ট্রাম্পের ভাষাকে “অমার্জিত, বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলেও বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইশরাক পত্রিকার সম্পাদক ড. হামিদ আল-সাইদি ওমান সালতানাতের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের “আক্রমণাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হুমকির” নিন্দা করে সেগুলোকে “কূটনৈতিক রীতির বিপজ্জনক লঙ্ঘন এবং দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩০