ইউরোপ কেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i160016-ইউরোপ_কেন_চীনের_সঙ্গে_সম্পর্ক_পুনঃপ্রতিষ্ঠা_করতে_চায়
পার্সটুডে-পার্সটুডে-ফ্রান্সসহ আরও চারটি ইউরোপীয় দেশ নতুন বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের চীন-বিষয়ক কৌশলগত বৈঠকের আগে, ইউরোপীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং বেইজিং সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার মোকাবিলায় ওই আহ্বান জানায়।
(last modified 2026-06-04T12:36:26+00:00 )
জুন ০৪, ২০২৬ ১৮:২৩ Asia/Dhaka
  • চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন
    চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

পার্সটুডে-পার্সটুডে-ফ্রান্সসহ আরও চারটি ইউরোপীয় দেশ নতুন বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের চীন-বিষয়ক কৌশলগত বৈঠকের আগে, ইউরোপীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং বেইজিং সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার মোকাবিলায় ওই আহ্বান জানায়।

এই খবরটি বাহ্যিকভাবে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই বড় অর্থনৈতিক অংশীদারের মধ্যে একটি সাধারণ বাণিজ্য বিরোধ বলে মনে হলেও, বাস্তবে এটি তাদের সম্পর্কের কাঠামোতে একটি গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এমন একটি পরিবর্তন, যা আগামী দশকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূ-অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে নির্ধারণ করতে পারে।

এই পরিবর্তনের গুরুত্ব বোঝার জন্য চলমান শুল্ক, বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইস্পাত নিয়ে বিরোধের বাইরে গিয়ে বিষয়টি দেখা দরকার। বর্তমানে ব্রাসেলসে যা ঘটছে, তা ইউরোপের শিল্প প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতিফলন। গত দুই দশকে চীন দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতি, অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ, উদীয়মান প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কৌশলগত শিল্পে সংগঠিত সহায়তার মাধ্যমে নিজেকে স্বল্পমূল্যের পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রযুক্তি শক্তিতে রূপান্তর করেছে।

বর্তমানে অনেক ইউরোপীয় শিল্প এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি, যে কম উৎপাদন খরচে ইউরোপীয় বাজার দখল করছে। ২০২৫ সালে চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৩৬০ বিলিয়ন ইউরোর বাণিজ্য ঘাটতি এই উদ্বেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনেক ইউরোপীয় রাজনীতিবিদ এই ঘাটতিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

ব্রাসেলসের উদ্বেগ শুধু চীনের রপ্তানির পরিমাণ নিয়ে নয় বরং এর প্রকৃতির পরিবর্তন নিয়েও। আগে ইউরোপ মূলত চীন থেকে সস্তা ভোক্তা পণ্য আমদানি করত কিন্তু এখন চীনের রপ্তানির বড় অংশে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম ব্যাটারি, সৌর প্যানেল এবং উন্নত প্রযুক্তি-যে খাতগুলো ইউরোপের ভবিষ্যৎ সবুজ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ার কথা ছিল। তার মানে চীন এখন একটি সাধারণ বাণিজ্য অংশীদার থেকে ইউরোপের ভবিষ্যৎ শিল্পের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং লিথুয়ানিয়ার নতুন বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির দাবি মূল্যায়ন করা যায়। এসব দেশ মনে করে, প্রচলিত মুক্তবাণিজ্যের নিয়ম এখন আর সেইসব অর্থনীতির সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য যথেষ্ট নয়-যেগুলো ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায়। তাই তারা চায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারে, আমদানি কোটা নির্ধারণ করতে পারে এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোকে আরও বেশি সুরক্ষা দিতে পারে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি আসলে ইউরোপের ক্লাসিক মুক্তবাণিজ্য নীতি থেকে কৌশলগত সুরক্ষাবাদের দিকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার প্রতিফলন-যা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও দেখা গেছে। তবে বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং রাশিয়ার জ্বালানির ওপর ইউরোপের নির্ভরতা ইউরোপীয় নেতাদের অর্থনৈতিক নির্ভরতার ধারণাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করেছে। এখন ব্রাসেলসে এই আশঙ্কা বাড়ছে যে বিরল খনিজ, ব্যাটারি, চিপ এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে একটি কৌশলগত দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর চীনের রপ্তানি সীমাবদ্ধতাও এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।#

পার্সটুডে/এনএম/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।