ইরানের নতুন নেতার সাথে বৈঠককে 'সম্মানজনক' বললেন ট্রাম্প
https://parstoday.ir/bn/news/world-i160032-ইরানের_নতুন_নেতার_সাথে_বৈঠককে_'সম্মানজনক'_বললেন_ট্রাম্প
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নবনির্বাচিত নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর সাথে বৈঠকে বসার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো চুক্তি হলে তিনি এই বৈঠককে 'সম্মানজনক' বলে মনে করবেন।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
জুন ০৫, ২০২৬ ১৫:২০ Asia/Dhaka
  • মুজতাবা খামেনেয়ী (ডানে) ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে)
    মুজতাবা খামেনেয়ী (ডানে) ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে)

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নবনির্বাচিত নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীর সাথে বৈঠকে বসার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো চুক্তি হলে তিনি এই বৈঠককে 'সম্মানজনক' বলে মনে করবেন।

গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "তার (মুজতাবা খামেনেয়ী) সাথে দেখা করতে পারলে আমি সম্মানিত বোধ করব। যদি আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়, তবে বৈঠকটি সম্ভব... আমি এতে সম্মত।"

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী শহীদ হন। এরপর ইরানের 'বিশেষজ্ঞ পরিষদ' এক জরুরি অধিবেশনে তাঁর পুত্র আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ীকে নতুন নেতা নির্বাচিত করে। তার ঠিক কয়েক সপ্তাহ পরই ট্রাম্পের কাছ থেকে এই মন্তব্য এলো।

বর্তমানে ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ জারি থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের এই সুর বদলকে একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে গত ৮ এপ্রিল ইসলামাবাদে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন উল্লেখ করে এই মার্কিন অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে তেহরান।

'জিমি কার্টার' হওয়ার ভয় ট্রাম্পের

একই দিন ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার জব্দ করার জন্য একটি গোপন বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা ভাবলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ঝুঁকির কথা চিন্তা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন।

ট্রাম্প বলেন, "একেবারে শুরুর দিকে আমরা এটি করার কথা ভেবেছিলাম, কারণ তখন তারা প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু তারা ঠিকই টের পেয়ে যেত।"

এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার কারণ হিসেবে ১৯৮০ সালে ইরানে ব্যর্থ মার্কিন সামরিক অভিযানের স্মৃতি উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের রাজনৈতিক পতনের অন্যতম কারণ ছিল। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমি জিমি কার্টার হতে চাইনি। আমার জিমি কার্টার হওয়ার কোনো শখ ছিল না।"

তিনি আরও যোগ করেন, ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে ভারী যন্ত্রপাতিসহ কয়েক সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করার প্রয়োজন হতো, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প বলেন, "এটি ভেনেজুয়েলার মতো নয় যে, আপনি কয়েক মিনিটে অপারেশন শেষ করে চলে এলেন আর সবাই আপনাকে হাত নেড়ে বিদায় জানাল। এটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র, আর এখানকার ভারী যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে বড় বড় এয়ারলিফটের প্রয়োজন।"

ইস্ফাহানে মার্কিন বাহিনীর ব্যর্থতা

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যার কিছুদিন আগেই, অর্থাৎ এপ্রিলের শুরুতে, ইস্ফাহানে মার্কিন বাহিনী একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিল।

প্রেস টিভির বিশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক আকাশসীমা নজরদারি চালায়। সে সময় তারা অন্তত একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার হারায়। এই প্রাথমিক ধাক্কার পরই হোয়াইট হাউজের নির্দেশে সেই বিপর্যয়কর অভিযানটি পরিচালিত হয়।

যদিও সরকারিভাবে বলা হয়েছিল যে, এটি একটি বিধ্বস্ত এফ-১৫ বিমানের পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান ছিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর উদ্দেশ্য ছিল ইস্ফাহানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ ও হামলা চালানো।

পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছের একটি পরিত্যক্ত রানওয়েতে মার্কিন সি-১৩০ পরিবহন বিমান অবতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরানি বাহিনী আগে থেকেই এই অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে যায়। ফলে প্রথম সি-১৩০ বিমানটি কমান্ডো সেনা নিয়ে নামার পরপরই রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। দ্বিতীয় বিমানটি নামার চেষ্টা করলে ইরানি বাহিনী হামলা চালায়, যা মার্কিন বাহিনীকে জরুরি অবতরণে বাধ্য করে।

এর ফলে মার্কিন কমান্ডোরা সেখানে আটকা পড়েন এবং পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার অভিযানটি তখন নিজেদের সেনাদের বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মার্কিন সেনারা তাদের অফিসারদের পরিচয়পত্রসহ বহু মূল্যবান সরঞ্জাম ফেলে রেখেই পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেন ইরানিদের হাতে না পড়ে, সেজন্য মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো নিজেদের ফেলে যাওয়া কিছু বিমানে নিজেরাই বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেয়, যাতে সেগুলো ইরানের হাতে না পড়ে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৫