ইরান-মার্কিন সমঝোতা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
-
• ইরান-মার্কিন সমঝোতা নিয়ে লেবাননে আনন্দ প্রকাশ
পার্সটুডে- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা জোরালো হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের জনগণ রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস ও আনন্দ প্রকাশ করেছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, লেবাননের গণমাধ্যমগুলো এই আনন্দ উল্লাসের ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে, আমেরিকাকে ইরানের আরোপিত শর্তের ভিত্তিতে যে সমঝোতা হয়েছে সে অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
একই সময়ে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের পলিটব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ এই সমঝোতাকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এবং প্রতিরোধ শক্তির বিজয়ের চিহ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের স্বাধীন দেশগুলো উপলব্ধি করেছে আমেরিকা কোনো অপরাজেয় শক্তি নয়। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আলী আল-কাহুমও এই সমঝোতাকে ইরানের বিজয় এবং আমেরিকার পরাজয়ের চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেছেন, নতুন মধ্যপ্রাচ্য নামক ইসরায়েলি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
ইরাকি সুন্নি উলেমা অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান শেখ খালিদ আল-মুল্লাও আসন্ন চুক্তিকে প্রতিরোধ ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটিকে এই অঞ্চলে শান্তি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এবং এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করবে।
একই সময়ে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিও এই চুক্তির সমর্থনে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং লেবাননে স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, কিছু ইহুদিবাদী বসতি স্থাপনকারী এই চুক্তিকে ইরানের একটি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে ইরানীরা ট্রাম্পকে নতজানু করেছে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।