ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরাশক্তির সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করেছে: গুতেরেস
-
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
পার্সটুডে-জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন পরাশক্তির আধিপত্যের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যবস্থা বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে একটি চূড়ান্ত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘে এক দশকের দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে থাকা গুতেরেস 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-কে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে বলেন, একতরফা মার্কিন আধিপত্যের অবসান এবং শীতল যুদ্ধের সময়কার পরাশক্তিগুলোর ‘পছন্দের যুদ্ধ’-এ নির্ণায়ক বিজয় অর্জনে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা বিশ্বকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে।
গুতেরেস বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে পরাশক্তিগুলোর বৈশ্বিক ফলাফল নির্ধারণের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিউইয়র্কে নিজের কার্যালয় থেকে 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস'-কে গুতেরেস বলেন, “পরাশক্তিগুলোর নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখলে বোঝা যায়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের ইচ্ছা, শক্তি বা সামরিক ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার পরাশক্তিগুলোর সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের প্রসঙ্গে জাতিসংঘ প্রধান ইরানে ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেন।
গুতেরেস বলেন, “পরাশক্তিগুলোকে বুঝতে হবে যে পরিস্থিতি বদলে গেছে, বিভিন্ন দেশের প্রভাব ও গুরুত্বও বদলে গেছে।” তিনি এসব ভূ-রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা থেকে সরে যাওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের পর তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস এবং দ্রুত ও ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশটিকে রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাই ছিল এই যুদ্ধের লক্ষ্য।
তবে ইরান শক্তিশালী, হিসাবি ও কার্যকর অসমমিত প্রতিরোধ কৌশলের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়ায় অভিযানটি দ্রুতই অচলাবস্থায় পড়ে।#
পার্সটুডে/এনএম/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন