পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি মুসলমানদের আহবান
পাকিস্তানের হাজার হাজার মুসলমান সেদেশে বসবাসকারী শিয়া মুসলমানদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রখ্যাত শিয়া নেতা আল্লামা সাইয়্যেদ আরেফ হোসেইনির শাহাদাত বার্ষিকীতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ইসলামাবাদে সংসদ ভবনের সামনে সমবেত হন। বিক্ষোভকারীরা সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ এবং শিয়া মুসলমানদেরকে রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। সামরিক শাসক জিয়াউল হকের শাসনামলে আল্লামা সাইয়্যেদ আরেফ হোসেন ১৯৮৮ সালের ৭ আগস্ট পারাচিনা শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। তখন থেকে সরকার শিয়া মুসলমানদের রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও শিয়াদের ওপর হামলা তো বন্ধ হয়নি বরং হামলার ঘটনা বহুগুণে বেড়েছে।
পাকিস্তানের মুসলিম ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আল্লামা রাজা নাসের আব্বাস জাফরি সেদেশে শিয়া মুসলমানদের রক্ষার লক্ষ্যে সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রায় ১০০দিন আগে থেকে অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে তিনি সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এক জনসমাবেশে তিনি বলেছেন, শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শে তিনি অনশনের অবসান ঘটাবেন।
পাকিস্তানের মুসলিম ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আল্লামা রাজা নাসের আব্বাস জাফরি আরো বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার আমাদের দাবি পূরণ না করবে ততদিন পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ ও সভা সমাবেশ চলতে থাকবে। তিনি শিয়া মুসলমানদের নিরাপত্তার ব্যাপারে পাক-সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসী হামলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। তিনি পাঞ্জাব সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তারা যদি শিয়া মুসলমানদের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেয় তাহলে লাহোরে বড় ধরণের বিক্ষোভের ডাক দেয়া হবে এবং ওই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
পাকিস্তানে শিয়া মুসলমানদের হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। যেসব উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শিয়া মুসলমানদের হত্যায় জড়িত তারা সরকারের কাছে চিহ্নিত হয়ে আছে। কিন্তু তারপরও হত্যাকাণ্ড চলছেই।
পাকিস্তানের লস্করে জাংভি, সেপাহে সাহাবা ও তেহরিকে তালেবানের মতো উগ্র গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের হত্যায় কুখ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু তারপরও পাক সরকার, সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগ এসব সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত নেয়নি। যদিও নিরাপত্তা বাহিনী কোনো কোনো সন্ত্রাসীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু তাদের বিচার কাজ বিলম্বিত হওয়ায় সন্ত্রাসীরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এবং হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং শিয়া ও সুন্নি আলেমরাও দেশটির মুসলিম ঐক্য পরিষদের মহাসচিব আল্লামা রাজা নাসের আব্বাস জাফরির অনশন ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা এবং শিয়া মুসলমানদের হত্যা বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিতে সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানে শিয়া ও সুন্নি নির্বিশেষে সব মুসলমানই সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হচ্ছে। অথচ এ দুই সম্প্রদায়ের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে আসছেন এবং তারা সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। #
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/৮