তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন: চিন্তিত ইউরোপ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i17035-তুরস্ক_ও_রাশিয়ার_সম্পর্কে_নাটকীয়_পরিবর্তন_চিন্তিত_ইউরোপ
রাশিয়ায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত উমিত ইয়াদিম বলেছেন, তুরস্ক কোন্ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়ার অধিকার ন্যাটো’র নেই। সম্প্রতি তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর বের হওয়ার পর এ মন্তব্য করলেন তিনি।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ১২, ২০১৬ ১৪:০৩ Asia/Dhaka

রাশিয়ায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত উমিত ইয়াদিম বলেছেন, তুরস্ক কোন্ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়ার অধিকার ন্যাটো’র নেই। সম্প্রতি তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর বের হওয়ার পর এ মন্তব্য করলেন তিনি।

যদিও তুরস্কের কোনো কর্মকর্তা কিংবা দেশটির গণমাধ্যম এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি কিন্তু মস্কোয় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইউরোপীয় সরকারগুলোর প্রকাশ্য কিংবা গোপন কিছু আচরণের প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ক সরকার নতুন করে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। তুরস্ক রুশ বিমান ভূপাতিত করার পর দু’দেশের সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর থেকে আঙ্কারা-মস্কো সম্পর্কে ফের  বরফ গলা শুরু হয়।

সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মস্কো সফরকালে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তুরস্ক ও রাশিয়া প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান পুতিনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর ইউরোপীয় সরকারগুলো মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে গভীর উদ্বিগ হয়ে পড়েছে। এমন কি তারা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে এরদোগানের কঠোর অবস্থানেরও সমালোচনা করেছে। কিন্তু তাদের এসব সমালোচনা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মস্কো সফর থেকে বিরত রাখতে পারেনি এবং তুরস্ক-রাশিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের পথেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

এরদোগানের মস্কো সফরের আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার মতো যোগ্যতা তুরস্ক অর্জন করেনি বলে অভিযোগ তোলা হত। কিন্তু এখন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা তুরস্কের ইঞ্জারলিক সামরিক ঘাঁটিতে সংরক্ষিত পাশ্চাত্যের পরমাণু বোমাসহ অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু জানিয়েছেন, সিরিয়া সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তুরস্কের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল মস্কো সফরে যাবে। এ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানও থাকবেন। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনাতোলি বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো এবং কেবলমাত্র রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তার দেশ রাশিয়ার সঙ্গে একমত। তবে তিনি তুরস্কের ওপর থেকে রাশিয়ার খাদ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, এ দু’দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাশ্চাত্যের জন্য কোনো  বার্তা নয়।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যাপারে ভুল নীতি গ্রহণ করেছে এবং তার দেশের দুই তৃতীয়াংশ জনগণ ইউরোপীয়  ইউনিয়নে যুক্ত হতে চায় না। তিনি আমেরিকায় বসবাসকারী গুলেন ও তার অনুসারীদেরকে সন্ত্রাসী অভিহিত করে বলেছেন, তারা রাশিয়া ও মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক বিস্তারে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এমনই এক পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তুরস্ক কোন্ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়ার অধিকার ন্যাটো’র নেই। তিনি আরো বলেছেন, ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের বিষয়টিও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ ও কুর্দিদের ব্যাপারে তুরস্কের নীতি কি হবে এমন  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, একরাতে নীতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। #

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১২