ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক গড়ে তুলুন: পাক সরকারকে গণমাধ্যম
-
ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পাকিস্তান সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ বলেছে, ইরানের হাতে বিশাল গ্যাস ও তেলের ভাণ্ডার থাকায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।
পত্রিকাটি বলেছে, ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প কৌশলগত দিক দিয়ে পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এ প্রকল্প এখন অনেকটাই সামর্থের ভেতরে রয়েছে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ছাড়াও পাকিস্তানের আরো অনেক সংবাদমাধ্যম ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য পাকিস্তান সরকারকে নিয়মিতভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছে। এসব গণমাধ্যম বলছে, বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সরকারকে জাতীয় স্বার্থে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি প্রক্ল্প এগিয়ে নেয়া উচিত।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, পাকিস্তানের জ্বালানি সংকট থাকার পরও দেশটির ওপর আমেরিকা চাপ সৃষ্টি করে চলেছে যাতে ইরানের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গেও নর্থ-সাউথ এলএনজি প্রকল্পে যুক্ত হতে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তানকে অবশ্যই তার জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে।
পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি শাসনামলের শেষ দিকে অর্থাৎ ২০১৩ সালের প্রথমার্ধে ইরান ও পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প উদ্বোধন করেছিল কিন্তু পরে তা মার্কিন চাপের কারণে বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। পরের বছরগুলোতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা না করতে পাকিস্তানের কাছ থেকে অন্তত দুদফায় প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে আমেরিকা। যদিও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে কিন্তু পাকিস্তান এখনো ওই প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয় নি।
শুধু গ্যাস ও বিদ্যুৎ নয়; ইরানের হাতে রয়েছে বিশাল তেলের মজুদ যা থেকে পাকিস্তান ভবিষ্যতে সহজেই উপকৃত হতে পারে। সে কারণে পাকিস্তানের উচিতই হবে- ইরানের সঙ্গে শক্ত জ্বালানি সম্পর্ক গড়ে তোলা; কারণ পাকিস্তান ইরানের এ জ্বালানি ভাণ্ডারের একবারেই কাছে অবস্থিত।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন আরো বলেছে, পাকিস্তানের জন্য এখন সময় এসেছে তার নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা কর্মসূচির দিকে গুরুত্ব দেয়া যা মূলত জাতীয় নিরাপত্তাকেই এগিয়ে নেবে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তার প্রতিবেদনের শেষ পর্যায়ে বলেছে, “ওয়াশিংটনের প্রতি সমর্থন দিয়ে পাকিস্তান অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছে; এখন ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নানামুখী উপায় খুঁজে দেখা উচিত।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২৬