যৌথ মহড়া চালাবে রাশিয়া-পাকিস্তান; পাল্টে যাচ্ছে কৌশলগত বিন্যাস
-
পাকিস্তানি সেনা
পাকিস্তান এবং রাশিয়া সামরিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যৌথ মহড়া চালাতে যাচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল (রোববার) জানিয়েছে।
সম্ভাব্য এ মহড়ার মাঝদিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বিন্যাস পাল্টে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তান শুধু রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়াই চালাবে না; দেশটির কাছ থেকে অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমানও কেনার কথা ভাবছে।
পাক-রুশ যৌথ মহড়াকে দু দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আরেকটি পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দেশ দুটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় পরস্পরের শত্রু ছিল।
পাকিস্তানের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন মহড়ায় দু দেশের প্রায় ২০০ সেনা অংশ নেবে। মস্কোয় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত কাজী খলিলুল্লাহ জানিয়েছেন, এ মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘ফ্রেন্ডশিপ-২০১৬’ তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেন নি। এ মহড়াকে তিনি দু দেশের মধ্যে সম্পর্ক বেড়ে চলার ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছেন।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরার নামে পাকিস্তানের সেনা শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর অভিযান এবং আফগান সীমান্তবর্তী সালালা চেকপোস্টে মার্কিন সামরিক হামলায় পাকিস্তানের বহু সেনা নিহত হওয়ার পর মূলত ইসলামাবাদ আমেরিকা ও ন্যাটো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারই প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়ার মাধ্যমে। পাকিস্তান মনে করছে, আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সঙ্গী হয়ে লাভ কিছু হয় নি বরং ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। এ বিষয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা এমনটাই চিন্তা করছেন বলে ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন খবর দিয়েছে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১২