দায়েশের ‘যৌনদাসী’ থেকে বেঁচে যাওয়া নারী এখন জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত
https://parstoday.ir/bn/news/world-i20392-দায়েশের_যৌনদাসী’_থেকে_বেঁচে_যাওয়া_নারী_এখন_জাতিসংঘের_শুভেচ্ছা_দূত
উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের যৌনদাসী থেকে বেঁচে আসা ইরাকের ইযাদি সম্প্রদায়ের এক নারীকে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়াদের প্রতি সম্মান দেখাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হলো।  
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬ ০৭:৫২ Asia/Dhaka
  • নাদিয়া মুরাদ বাসি
    নাদিয়া মুরাদ বাসি

উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের যৌনদাসী থেকে বেঁচে আসা ইরাকের ইযাদি সম্প্রদায়ের এক নারীকে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়াদের প্রতি সম্মান দেখাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হলো।  

নাদিয়া মুরাদ বাসি নামে ২৩ বছর বয়সী এ নারীর জীবনের বিভীষিকাময় ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট। ওই দিন ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সিনজার শহরের কোচো এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় দায়েশ। সেদিন কোচো এলাকায় কয়েকশ মানুষকে হত্যা করে উগ্রবাদীরা। নিহতদের মধ্যে নাদিয়ার ছয় ভাইও ছিলেন। এছাড়া, নাদিয়াসহ ওই এলাকার কয়েকডজন নারীকে বন্দী করে মসুল শহরে নেয়া হয়। মসুল হচ্ছে ইরাকের ভূখণ্ডে দায়েশের কথিত রাজধানী।

মসুল শহরে নেয়ার পর নাদিয়ার ওপর গণধর্ষণের মতো ভয়াবহ অমানবিক নির্যাতন চালানা হয়। পরে তাকে যৌনদাসী হিসেবে কয়েকবার বেচাকেনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই বছরের নভেম্বর মাসে নাদিয়া দায়েশের বন্দিশালা থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

পালিয়ে আসার পর নাদিয়া জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে চিকিৎসা নেয়ার জন্য চলে যান। সেখানে সুস্থ হওয়ার পর তিনি আমেরিকা যান এবং উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের ভয়াবহ অপরাধ বিশেষ করে ইযাদি সম্প্রদায়ের নারীদের ওপর চালানো বীভৎস্য অপরাধ সম্পর্কে জনসচেতনা তৈরির জন্য কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি মানবপাচারের অবসান ঘটানোর জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন।

লন্ডনে বক্তব্য রাখছেন নাদিয়া মুরাদ বাসি (গত ফেব্রুয়ারির ছবি)

চলতি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে নাদিয়াকে নোবেল পুরস্কারের জন্য ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর গতকাল (শুক্রবার) ‘জাতিসংঘ নেশন্স অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ বা ইউএনওডিসি আনুষ্ঠানিকভাবে নাদিয়া মুরাদকে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।

শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ দেয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন নাদিয়ার অভিষেক অনুষ্ঠানে এ নারীকে “ভয়েস ফর দ্যা ভয়েসলেস” বলে আখ্যা দেন।#           

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১৭