জাতিসংঘের বিচারককেও আটক করতে ছাড়েনি তুরস্ক
-
বুধবার আকাই\'র আটকের কথা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে জানান মেরন
জাতিসংঘের একটি আদালত বলেছে, তুর্কি সরকার ওই আদালতের একজন বিচারককে আটক করে তার কূটনৈতিক দায়মুক্তির আইন লঙ্ঘন করেছে।
হেগ-ভিত্তিক ম্যাকানিজম ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল (এমআইসিটি)’র প্রেসিডেন্ট থিওডর মেরন বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বরে তার আদালতের তুর্কি বিচারক আইদিন সেদাফ আকাই নিজ দেশ সফরে গেলে তাকে আটক করে আঙ্কারা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আকাই’র কূটনৈতিক দায়মুক্তি এবং বিচারিক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত জুলাই মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে আকাইকে আটক করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে আটক করার পর এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের আদালতের পক্ষ থেকে কাউকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি রজব তাইয়্যেব এরদোগান সরকার। মেরন বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম জাতিসংঘের একজন সক্রিয় বিচারককে আটক করা হলো।
আটকের সময় আকাই রুয়ান্ডা গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত একজন রাজনীতিবিদের আপিলের শুনানি করছিলেন। ওই রাজনীতিবিদকে ২০১২ সালে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আকাইকে গ্রেফতারের ফলে ওই শুনানি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান আদালতের সভাপতি মেরন।
জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার সন্দেহে তুর্কি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষকে আটক এবং আরো হাজার হাজার মানুষকে চাকুরিচ্যুত করেছে। আটক ও চাকরি হারানোদের মধ্যে রয়েছেন সেনা সদস্য, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও সরকারি পদস্থ কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
সমালোচকরা বলছেন, নিজের রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের কাজে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তাদের মতে, যারা আটক হয়েছেন বা চাকরি হারিয়েছেন তাদের বেশিরভাগেরই ওই অভ্যুত্থানে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১০