দায়েশ মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন আফগানিস্তানের সুন্নি আলেমরা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i25897-দায়েশ_মোকাবেলার_আহ্বান_জানিয়েছেন_আফগানিস্তানের_সুন্নি_আলেমরা
উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠায় সেদেশের সুন্নি ওলামা পরিষদ অশুভ এ শক্তিকে মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী কাবুলে পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে তারা সেদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে দায়েশের অপরাধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ১৬, ২০১৬ ১৫:২৫ Asia/Dhaka

উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠায় সেদেশের সুন্নি ওলামা পরিষদ অশুভ এ শক্তিকে মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী কাবুলে পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে তারা সেদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে দায়েশের অপরাধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের প্রখ্যাত সুন্নি আলেম মৌলভি সাদুযি ওই বৈঠকে বলেছেন, ধর্মের নামে গড়ে ওঠা দায়েশ সন্ত্রাসীরা ধর্ম ও মানবতার শত্রু। তিনি এসব তাকফিরি সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট প্রতিনিধি মৌলভি আব্দুর রহমান রাহমনিও বলেছেন, তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সব মুসলমানের বিশেষ করে আফগান জনগণের প্রধান শত্রু। তারা যেসব হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসলাম তার অনুমতি দেয় না।

দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সম্প্রতি আফগানিস্তানে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা নানগারহার প্রদেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ওই প্রদেশের হজ সংস্থা ও ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান মৌলভি জহির হাক্কানি জানিয়েছেন, দায়েশ সন্ত্রাসীরা এ পর্যন্ত সেখানকার ৩৬জন আলেমকে হত্যা করেছে। এমন কি তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ভয়ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা আলেমদের মসজিদে প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে।

দায়েশসহ অন্যান্য উগ্র গোষ্ঠীগুলো ইসলামের ভুল শিক্ষা নিয়ে তাদের অপরাধযজ্ঞের ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ ইসলাম ধর্ম শান্তি, দয়া ও রহমতের ধর্ম। আফগানিস্তানের সরকার জানিয়েছে, দায়েশকে মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আলেম সমাজের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আলেমরা বিশেষ করে সুন্নি আলেম সমাজ মসজিদ ও জনসমাগম স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারে। একমাত্র তারাই পারেন ইসলাম ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে দায়েশের প্রচারিত বিকৃত ধর্ম সম্পর্কে মানুষকে সজাগ করতে।

আফগানিস্তানের কোনো কোনো উগ্র গোষ্ঠী তাদের অপরাধযজ্ঞের পক্ষে ধর্মীয় নেতা বা আলেমদের সমর্থন লাভেরও  চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা যায়। এ অবস্থায় দেশটির ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে সুন্নি আলেমরা সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে আফগান সমাজে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে কোণঠাসা করতে পারেন। আফগানিস্তানে ধর্মীয় নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। এ কারণে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তারা জনগণকে সহজেই ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। একই সঙ্গে সরকার ও সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে তারা সন্ত্রাসীদের নির্মূলে জাতীয় ঐক্য ও সংহতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।

দায়েশ সন্ত্রাসীরা এটা খুব ভালো করেই জানে যে, আফগানিস্তানের জনগণ বিদেশী আধিপত্যের প্রচণ্ড বিরোধী এবং সেদেশের মাটিতে আগ্রাসী শক্তির উপস্থিতিকে তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। দায়েশ ঠিক এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে এবং নিজেদেরকে বিদেশি বিরোধী হিসেবে তুলে ধরে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সুন্নি আলেমরা যদি দায়েশের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ঘোষণা করেন তাহলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য জোরদারে তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।

গত দশকগুলোতে আফগানিস্তানের আলেমরা বিদেশী শত্রুর মোকাবেলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন যা কিনা সেদেশের ভাগ্য নির্ধারণে অবদান রেখেছিল। #              

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৬