সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস: বিরুদ্ধে ভোট দিল ইরান, রাশিয়া, চীন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i27871-সিরিয়া_ইস্যুতে_জাতিসংঘে_প্রস্তাব_পাস_বিরুদ্ধে_ভোট_দিল_ইরান_রাশিয়া_চীন
সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। কানাডার তোলা এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২২টি এবং বিপক্ষে ভোট দেয় ১৩টি দেশ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ১০, ২০১৬ ০৯:৪৬ Asia/Dhaka
  • বাশার আল-জাফারি
    বাশার আল-জাফারি

সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। কানাডার তোলা এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২২টি এবং বিপক্ষে ভোট দেয় ১৩টি দেশ।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর অভিযান দ্রুত বন্ধ এবং সারা দেশে মানবিক ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর সমস্ত অবরোধ তুলে নিতে হবে। প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়া উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, রাশিয়া এবং চীন। সিরিয়ার সরকারি সেনা ও মিত্র যোদ্ধারা যখন সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান জোরদার করেছে এবং আলেপ্পোসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক বিজয় অর্জন করছে তখন এ প্রস্তাব পাস করা হলো। তবে এ প্রস্তাব মানতে বাধ্য নয় সিরিয়া।

গত বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি পশ্চিমা প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সাধারণ পরিষদে গতকাল এ প্রস্তাব পাস করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল চীন ও রাশিয়া।

জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার আল-জাফারি প্রস্তাব পাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের জন্য পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে- “সিরিয়ায় রক্তের খেলা শেষ হতে চলেছে।” তিনি কানাডার প্রতিনিধিদলের সমালোচনা করে বলেন, এ প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে দেশটি  সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। কারণ প্রস্তাব তোলার আগে কানাডার প্রতিনিধিরা সিরিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন নি। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব তোলা হয়েছে নিতান্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং এটা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।  

জাফারি জোর দিয়ে বলেন, এ প্রস্তাব তোলার আগে কানাডার প্রতিনিধিদের উচিত ছিল- উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ভয়াবহ অপরাধের বিষয়ে সিরিয়ার হাজার হাজার মানুষের নির্যাতনের কাহিনী শোনা। গত কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার সেনা ও মিত্র যোদ্ধারা  সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এসব মানুষকে উদ্ধার করেছে।

জাফারি পরিষ্কার করে বলেন, কানাডার তোলা এ প্রস্তাব পাাস হলেও সিরিয়ার সেনা ও মিত্র যোদ্ধারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, শিগগিরি তার দেশের সেনারা পুরো আলেপ্পো শহরের নিয়ন্ত্রণ নেবে। তিনি বলেন, “আমি সন্ত্রাসবাদের সমর্থক দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সিরিয়ার সেনারা আলেপ্পোর শতকরা ৯৩ ভাগের বেশি এলাকা মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের রক্তাক্ত খেলা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১০