সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পশ্চিমা ষড়যন্ত্র
সিরিয়ার কোনো কোনো এলাকায় ‘সেফ জোন’ বা ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের মার্কিন উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে জাতিসংঘ। এই সংস্থার শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতির কারণে সেখানে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভুল ও অবাস্তব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্রদের সহযোগিতায় সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবে ওয়াশিংটন।
সিরিয়ার শরণার্থীদের সাহায্য দেয়ার অজুহাতে সেখানে যেসব দেশ কথিত নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায় তুরস্ক, আমেরিকা ও সৌদি আরব সেগুলোর অন্যতম। কিন্তু দামেস্ক বরাবরই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছে, উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সিরিয়া সংকট সমাধানে কোনো সাহায্য করা যাবে না বরং নানা কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। সিরিয়া সরকার রাজনৈতিক উপায়ে দেশটিতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে বিশ্ব সমাজের উচিত দামেস্ককে সহযোগিতা করা। সিরিয়া সংকটের মূল কারণ দেশটিতে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি। কাজেই আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত এসব গোষ্ঠীকে নির্মূলের কাজে সিরিয়া সরকারকে সহায়তা করা।
মার্কিন সরকার এখন পর্যন্ত যেসব দেশে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে সেসব দেশের সংকট নিরসনে তা কোনো কাজে আসেনি। বরং সন্ত্রাসী অধ্যুষিত দেশগুলোতে এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে জঙ্গিরা আরো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে।
সিরিয়া ও ইরাকে তৎপর প্রধান জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম আইএসআইএল বা দায়েশ। এই গোষ্ঠী সৃষ্টিতে আমেরিকার ভূমিকা থাকলেও আবার সেই মার্কিন সরকারই বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশ্যে দায়েশ নির্মূলের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী জোট গঠন করে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে ওয়াশিংটন দ্বৈত নীতি গ্রহণ করার কারণে কয়েক বছর ধরে হামলার পরও দায়েশকে নির্মূল তো করা যায়নি উল্টো এটির আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকার এই দ্বৈত নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় সিরিয়ায় কথিত সেফ জোন প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা মার্কিন সরকার উত্থাপন করেছে সে ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে ব্যাপক সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, সিরিয়া সরকারসহ দামেস্কের সহযোগী দেশগুলোর সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কথিত নিরাপদ অঞ্চল সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করেছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা। এসব দেশ চায়, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শক্তিশালী অবস্থানে চলে যাক উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো। এ ছাড়া, সিরিয়ায় পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে এই দেশটিকে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করাও পশ্চিমা ও কিছু আরব দেশের লক্ষ্য।
এ কারণেই বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিরিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে যা ধীরে ধীরে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে। এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই জাতিসংঘ এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। বিশ্ব সংস্থাটির এ পদক্ষেপে মার্কিন পরিকল্পনার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও বিরোধিতা ফুটে উঠেছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৫