নওয়াজ শরীফের আঙ্কারা সফর: রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ হ্রাসের চেষ্টা?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তুরস্ক সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত এসব সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন তারা।
নওয়াজ শরীফের আঙ্কারা সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানী, ব্যাংকিং লেনদেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক দু’টি দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা ইকো’র সদস্য এবং দু’দেশই চায় দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া অন্য যেসব বিষয়ে নওয়াজ শরীফ তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সেগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান সংকট অন্যতম।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং দুই দেশ পরস্পরকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কামানের গোলা নিক্ষেপ করে। কাবুলের পক্ষ থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়ার কারণে পাক-আফগান সীমান্তে অনেকটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয় এবং এখনো সেখানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আফগান সরকারের ওপর তুরস্কের প্রভাব থাকায় এর আগে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে বিবাদ নিরসনে মধ্যস্থতা করেছে আঙ্কারা। কাজেই এবার যদি নওয়াজ শরীফ আরেকবার তুর্কি কর্মকর্তাদেরকে মধ্যস্থতা করার আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শরীফ আলাপ করেছেন তা হলো পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব কমানো। পাকিস্তান ও তুরস্ক দু’টি দেশেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখে। তুরস্কে এরদোগান সরকার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানামুখী ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও গত বছরের জুলাই মাসে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয়।
এদিকে নওয়াজ শরীফ একবার জেনারেল মুশাররফের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। তিনি প্রায় এক দশক পর সৌদি আরব ও আমেরিকার সহযোগিতায় ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারলেও এখনো রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের দুঃস্বপ্ন তাকে তাড়া করে ফেরে। এ কারণে তিনি সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে রজব তাইয়্যেব এরদোগান সরকারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান।
অন্যদিকে তুরস্ক সরকার ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেকায়দা অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইসলামাবাদের সমর্থন আঙ্কারার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট এরদোগান আশা করছেন, এ ধরনের সফরের মাধ্যমে তার সরকার মুসলিম বিশ্বে নিজের হারানো অবস্থান আবার ফিরে পেতে পারে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৪