তালেবান ও দায়েশ যৌথভাবে আফগান গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে: জাতিসংঘ
-
মির্জা ওলাং গ্রামে চালানো পাশবিকতার খণ্ড চিত্র
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সারেপোল প্রদেশের একটি গ্রামে চলতি মাসের গোড়ার দিকে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে তা তালেবান ও দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যৌথভাবে চালিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
জাতিসংঘের আফগান মিশন- ইউএনএএমএ’র পক্ষ থেকে চালানো এক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের এ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারে পোল প্রদেশের শিয়া জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত মির্জা ওলাং গ্রামের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে তাদের কাছে এ চিত্র ধরা পড়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং সম্ভবত গ্রামটিতে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে।”
গত ৩ আগস্ট উগ্র তাকফিরি জঙ্গিরা মির্জা ওলাং গ্রামে ঢোকার পথে স্থানীয় পুলিশের একটি চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে সেখানকার সব পুলিশকে হত্যা করে। এরপর তারা গ্রামটিতে হানা দেয়। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা গ্রামটিতে ঢুকে অত্যন্ত নৃশংস উপায়ে সেখানকার অধিবাসীদের হত্যা করে। তাদের হামলা থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রক্ষা পায়নি। তাকফিরি জঙ্গিরা কয়েকটি মসজিদ ও অন্তত ৩০টি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়, বহু গ্রামবাসীকে গলা কেটে এবং বাকিদের গুলি করে হত্যা করে।
বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো ওই গণহত্যার পর তালেবান এক বিবৃতিতে জানায়, তারা গ্রামটি দখল করেছে। কিন্তু জঙ্গি গোষ্ঠীটি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, ‘এটি শত্রুদের মিথ্যা প্রচারণা। ’
জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জঙ্গিদের হাতে নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছে ৫ আগস্ট। ওইদিন গ্রামটি থেকে পালাতে গিয়ে জঙ্গিদের নির্মমতার শিকার হয় হতভাগ্য মানুষগুলো। সে সময় আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জঙ্গিদের হাতে অন্তত ৬০ ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
তালেবান গোষ্ঠী জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে দায়েশ গোষ্ঠী নিজেই গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিল, তারা মির্জা ওলাং গ্রামের ৫৪ শিয়া মুসলমানকে হত্যা করেছে। #
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২১