ব্রিকসে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে না: চীন
ব্রিকস সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে না বলে চীন জানিয়ে দিয়েছে। আগামী ৩/৫ সেপ্টেম্বর চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের জিয়ামেনে ‘ব্রিকস’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু তার আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) চীন বলেছে, ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত স্থান নয়।
বিশ্বের উদীয়মান নতুন অর্থনৈতিক শক্তি চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ‘ব্রিকস’ গঠিত।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়া বন্ধ না করলে ওয়াশিংটন চুপ করে থাকবে না। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকেও প্রায়ই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগে সোচ্চার ও উদ্বেগ প্রকাশ করতে হতে দেখা যায়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িং পাকিস্তানের হয়ে সাফাই দিয়ে বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান সব সময় সামনের সারিতে থেকেছে। এ জন্য পাকিস্তান অনেক ত্যাগ স্বীকারও করেছে।’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এব্যাপারে পাকিস্তানের অবদান ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেয়া উচিত বলেও হুয়া চুনয়িং মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান ও অন্য দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চীন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে চায়। এটাও খেয়াল করেছি, পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনে আদৌ কোনো পদক্ষেপ করছে কি না, তা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। কিন্তু ব্রিকসের সম্মেলন সে আলোচনার জন্য উপযুক্ত নয়।’
চীনের ওই অবস্থানের ফলে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতের পক্ষে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কঠিন ও অসম্ভব হয়ে পড়ল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পাকিস্তান থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ ইস্যু ভারত ও চীনের মধ্যে একটি বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চীন এর আগে দুই বার জাতিসংঘে জৈশ-ই মুহাম্মদ সংগঠনের প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ঘোষণা করার উদ্যোগে ভেটো দিয়েছে।
গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের পক্ষ থেকে ব্রিকস ঘোষণায় সন্ত্রাসবাদী তালিকায় জৈশ -ই মুহাম্মদ ও লস্কর-ই তাইয়্যেবার নাম যুক্ত করার প্রচেষ্টাকেও চীন সমর্থন করেনি।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১