কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের তৎপরতার খবর পেয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার। আজ (শুক্রবার) মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে এ দবি করেন।
হঠাৎ করে সীমান্তে সেনাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জ হতে বলেন, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের তৎপরতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী তৎপরতার তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরসার নতুন তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কিছু নয়। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামের একটি গোষ্ঠীকে সংক্ষেপে আরসা নামে অভিহিত করা হয়।
তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তের জিরো পয়েন্ট বা শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করতেই সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনারা চাপ বাড়িয়েছে। মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের তারা শূন্যরেখা থেকে চলে যেতে বলেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি'র খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘিরে এ সপ্তাহে মিয়ানমার সেনাসমাবেশ বাড়িয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে গত বছরের আগস্ট মাসে দেশটি থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। শূন্যরেখায় এখন প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছে। সেনা মোতায়েনের ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে বিলম্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ বলে আসছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী।#
পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/২