ইয়েমেন যুদ্ধের শিশুঘাতক সৌদি যুবরাজের ওয়াশিংটন জয়ের মূল রহস্য: পেট্টো-ডলার!!!
-
সৌদি কর্মকর্তাদের তলোয়ার নৃত্যে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ!
ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে সাহায্য অব্যাহত রাখবে মার্কিন সরকার। এই যুদ্ধে সৌদি আরবকে সাহায্য দেয়া বন্ধ করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেট নাকচ করে দিয়েছে।
মার্কিন সিনেটে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ৪৪ ও বিপক্ষে ভোট পড়ে ৫৫। আমেরিকায় সৌদি যুবরাজের সফরের সময় এ ঘটনা ঘটলো।
ইয়েমেনের চলমান মানবিক বিপর্যয়ের দায় থেকে মার্কিন সরকারকে দূরে রাখার যে চেষ্টা চলছিল তা আসলে শত কোটি কোটি ডলারের সৌদি বিনিয়োগ ও অস্ত্র-চুক্তির নিচে চাপা পড়লো।
আমেরিকা সফররত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ৪৫ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। গত বছর সৌদি আরবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় ওই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আনন্দে চিৎকার করে বলেছিলেন: (আমেরিকানদের জন্য) চাকরি চাকরি চাকরি!!।
আর এবার ওয়াশিংটনে সৌদি যুবরাজকে দেয়া সাক্ষাতে ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরব একটি ধনী দেশ, আশা করছি সৌদি সম্পদের একটা অংশ বিনিয়োগ ও অস্ত্র কেনার খাতে আমেরিকাকে দেয়া হবে।
সৌদি সরকারের বিপুল অর্থ কখনো সরাসরি কিংবা কখনো লবিগুলোর মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিবিদদের পকেটে যাচ্ছে! সৌদি অর্থের আরও এক বিপুল অংশ পুঁজি বিনিয়োগ ও অস্ত্র কেনার সুবাদে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের নির্বাচনী অঞ্চলগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করছে। তাই এটা আগেই অনুমান করা হচ্ছিল ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাবটি সিনেটে নাকচ হয়ে যাবে।
অথচ বিশ্বের সব মানবাধিকার ও মানব-দরদি সংস্থাগুলো ইয়েমেনে মানবীয় বিপর্যয় ঘটার কথা স্বীকার করছে। সেখানে তিন বছর ধরে চলমান সৌদি বিমান হামলায় প্রতিদিন নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক ইয়েমেনি নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছে এবং প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটির বেশিরভাগ অবকাঠামো। একইসঙ্গে অবরোধের কারণে দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি।
বর্তমান যুগের সবচেয়ে ভয়াবহ ও তিক্ত পরিহাসগুলোর অন্যতম হল বিশ্বের সবচেয়ে বঞ্চিত ও দরিদ্র আরব দেশ ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের প্রতি মানবাধিকারের কথিত দাবিদার পশ্চিমা শক্তিগুলোর অব্যাহত সমর্থন। বেশিরভাগ মার্কিন সিনেটরই নিরপরাধ ও বেসামরিক ইয়েমেনিদের রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার সৌদি পৈশাচিকতা অব্যাহত রাখার পক্ষেই অমানবিক রায় দিলেন।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন সিনেটের স্বতন্ত্র সদস্য বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ইয়েমেনে হস্তক্ষেপকামী সৌদি জোটের প্রতি মার্কিন সহায়তা এক মানবীয় বিপর্যয়। বোমা ও জঙ্গি বিমানের জ্বালানী দেয়ার পরিবর্তে মার্কিন সরকারের উচিত ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা এবং বেসামরিক লোকদের জন্য মানবীয় ত্রাণ সাহায্যের ব্যবস্থা করা।
কিন্তু ওয়াশিংটনের ক্ষমতাসীন মহলে এমন বক্তব্য দেয়া যেন কেবলই অরণ্যে রোদন। ক্ষমতা-প্রেমিক মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি পেট্রোডলারের লোভে বহুকাল আগেই বিবেক হারিয়ে ফেলেছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২১